ঘাম ও চোখের পানিতে ভেজা জীবন ঠেলাগাড়ি শ্রমিকের বুকফাটা আর্তনাদ

জীবনযুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সকাল থেকে রাত—কাঁধে জোয়াল আর ঠেলাগাড়ির চাকা ঘোরানোই যার নিয়তি। বলছি গাইবান্ধার এক ঠেলাগাড়ি শ্রমিকের কথা। যার জীবনের প্রতিটি দিন কাটে রোদ, বৃষ্টি আর অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণার সাথে লড়াই করে। কেবল পরিবারের মুখে একমুঠো অন্ন তুলে দেওয়ার জন্য তিনি অমানবিক এই পরিশ্রমকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

তার শরীরজুড়ে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন—কখনো ভাঙা পা, কখনো বুকের হাড়, আবার কখনো মাথায় সেলাই। তিনি জানান, ঠেলাগাড়িতে মাল নিয়ে ব্রিজ পার হওয়া যেন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়া। প্রচণ্ড রোদে শরীর ঘেমে ভিজে যায়, আবার বৃষ্টির সময় নিজের কথা ভুলে পণ্যসামগ্রী রক্ষা করাই তার মূল দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। দৈনিক আয়ের সীমাবদ্ধতা আর ঋণের কিস্তি শোধের চাপে তার জীবন যেন এক অন্তহীন যুদ্ধ।

তবুও থেমে নেই তিনি। সন্তানকে শিক্ষিত করার স্বপ্ন আর বৃদ্ধ মা-বাবার দায়িত্ব—এই সব মিলিয়ে প্রতিদিন সকাল আটটায় তার কর্মযুদ্ধ শুরু হয়। তিনি বলেন, “সংসার আর বাচ্চার মুখের দিকে তাকালে সব কষ্ট ম্লান হয়ে যায়।” এই শ্রমিকের অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর জীবনসংগ্রাম আমাদের সমাজের এক চরম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। গাইবান্ধার গোস্থানের মোড়ে মালা ট্রান্সপোর্টে তার এই অমানবিক লড়াই প্রতিদিন চলছে।