বাঁশে নির্মিত বিলাসবহুল রেস্টুরেন্ট
গ্রামীণ ঐতিহ্যে আধুনিক স্বাদের ছোঁয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক :
হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে বাঁশ ও খড় দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এক নান্দনিক রেস্টুরেন্ট, যার নাম রাখা হয়েছে ‘বাঁশের কেল্লা’। আধুনিক ইন্টেরিয়র এবং মুখরোচক খাবারের সমন্বয়ে এটি এখন দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভোজনরসিকদের প্রধান আকর্ষণ। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই ব্যতিক্রমী রেস্টুরেন্টের উদ্যোক্তা ও তাদের সাফল্যের গল্প উঠে এসেছে।
উদ্যোগের নেপথ্যে ও ডিজাইন গ্রামের হারিয়ে যাওয়া বাঁশের ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখে এই ক্যাফে রেস্টুরেন্টটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর বিশেষত্ব হলো এর চাল বা ছাদ তৈরি করা হয়েছে খড় দিয়ে। খড় ব্যবহারের প্রধান কারণ হলো এটি গরমকালেও ভেতরটা বেশ ঠান্ডা রাখে। বাঁশের খাঁচা ও শৈল্পিক ডিজাইনের কারণে এটি মানুষের নজর কাড়ছে।
খাবারের মেন্যু ও মান রেস্টুরেন্টটিতে শুধুমাত্র দেশি খাবার নয়, বরং ফাস্টফুড, থাই, চাইনিজ, ইতালিয়ান এবং মেক্সিকানসহ নানা ধরনের আন্তর্জাতিক মানের খাবার পাওয়া যায়। বিশেষ করে এখানকার পাস্তা, চাওমিন, চিকেন ফ্রাই এবং বার্গারের সুনাম ক্রেতাদের মুখে মুখে। মানসম্মত খাবারের কারণেই মানুষ একবার খেয়ে বারবার ফিরে আসছে।
পুঁজি ও কর্মসংস্থান শুরুতে এই প্রকল্পে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নতুন ডিজাইন ও আধুনিকায়নের পর মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০-১১ লক্ষ টাকায়। এই রেস্টুরেন্টের মাধ্যমে স্থানীয় ১০ জন ব্যক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রাহকদের চাপ ও জনপ্রিয়তা উদ্বোধনের দিন থেকেই রেস্টুরেন্টটিতে অভাবনীয় ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। উদ্যোক্তাদের মতে, প্রথম দিকে গ্রাহকদের সামলাতে তাদের বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে। বর্তমানে রংপুর, গাইবান্ধা, গোবিন্দগঞ্জ এবং বগুড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে সময় কাটাতে এবং ভালো খাবার খেতে আসছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রেস্টুরেন্টটির প্রতিদিনের গড় বিক্রি ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়িকভাবে সফল এই তরুণরা এখন ‘বাঁশের কেল্লা’-র আরও শাখা খোলার পরিকল্পনা করছেন এবং ডিজাইনে আরও আকর্ষণীয় বৈচিত্র্য আনার স্বপ্ন দেখছেন।
পরিবারের সমর্থন ও বাবার অনুপ্রেরণায় গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি গ্রামীণ জনপদে বিনোদনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।



