সফলতার পথে হাঁটছেন ৫০ বছর বয়সী এক নারী উদ্যোক্তা

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

“একজন নারী হয়ে দোকান চালাচ্ছেন?”—এমন অনেক সমালোচনা আর বাঁকা চাহনি উপেক্ষা করে আজ সফলতার পথে হাঁটছেন ৫০ বছর বয়সী এক নারী উদ্যোক্তা। গত ১০-১২ বছর ধরে বুটিক্স ও হস্তশিল্পের সাথে জড়িত থেকে তিনি কেবল নিজেকেই স্বাবলম্বী করেননি, বরং প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন আরও অনেককে। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই হার না মানা নারীর সংগ্রামের গল্প উঠে এসেছে।

কাজের শুরু ও বৈচিত্র্য রংপুর থেকে ব্লক-বাটিকের কাজ শিখে আসার পর তিনি নিজের বাড়িতেই ছোট ছোট কুশন কভার তৈরির মাধ্যমে কাজ শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তিনি শাড়ি, ওড়না, নকশী কাঁথা, ব্লকের ম্যাক্সি, কামিজ এবং বাচ্চাদের থ্রি-পিস নিয়ে কাজ করছেন। তার পণ্যের বিশেষত্ব হলো উন্নত মানের কাপড় এবং টেকসই রং, যা সহজে উঠে যায় না।

মূল্য ও বাজারজাতকরণ তার কালেকশনে থাকা পণ্যের দাম হাতের কাজের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন:

  • শাড়ি: ৯০০ টাকা থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত।

  • থ্রি-পিস ও নকশী কাঁথা: ২,৩০০ টাকা থেকে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত। তিনি খুব সামান্য লাভে পণ্য বিক্রি করেন যাতে সাধারণ মানুষ সহজে নিতে পারে এবং এর সাথে জড়িত নারী কর্মীদের পারিশ্রমিক ও দোকান ভাড়া মিটিয়ে চলা যায়।

প্রশিক্ষণ ও অনুপ্রেরণা নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি তিনি এসকেএস (SKS) এবং ব্র্যাক (BRAC)-এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। গত ছয় মাস থেকে এক বছর ধরে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। তার লক্ষ্য হলো আরও অনেক নারীকে স্বাবলম্বী করে তোলা এবং তার শোরুমটিকে আরও বড় করা।

সংগ্রাম ও সমালোচনা ৫০ বছর পার করা এই নারী প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দোকানে সময় দেন। তিনি জানান, বাসার চেয়ে তার শোরুমেই থাকতে বেশি ভালো লাগে। সামাজিকভাবে এখনো তাকে অনেকে সমালোচনা করেন যে নারী হয়ে কেন দোকান চালাচ্ছেন, কিন্তু তিনি সেসব শুনে কেবল একটি মৃদু হাসি দেন। একবার ঢাকাতে মাল পাঠিয়ে ৪,০০০ টাকার মতো লোকসানের শিকার হলেও তিনি দমে যাননি, বরং সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনলাইনে এখনো খুব একটা দক্ষ হতে না পারলেও অফলাইন শোরুমের মাধ্যমেই তিনি তার ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তার বিশ্বাস, মন ভালো থাকলে এবং ইচ্ছা থাকলে যেকোনো বয়সেই সফল হওয়া সম্ভব। তিনি চান তার এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরও অসংখ্য অসহায় নারী তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ পাক।

সামাজিক বাধা ডিঙিয়ে এই উদ্যোক্তার এগিয়ে চলা সমাজের সকল নারীদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।