হলুদ-নিমপাতা আর কফির জাদুতে উদ্যোক্তা তিশার জয়জয়কার
সাবান
করোনাকালে শূন্য হাতে শুরু করে আজ সফল উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা তিশার গল্প নিয়ে ভিডিও’র স্ক্রিপ্ট নিচে দেওয়া হলো:
হলুদ-নিমপাতা আর কফির জাদুতে উদ্যোক্তা তিশার জয়জয়কার
তিশা: বাজারের সাবানে অনেক ক্ষার আর কৃত্তিম সুগন্ধি থাকে যা ত্বকের ক্ষতি করে। কিন্তু আমার সাবানে কোনো কেমিক্যাল নেই। আমি হলুদের গুঁড়ো, নিমপাতা আর কফি পাউডার দিয়ে অর্গানিক সাবান তৈরি করি। হলুদ আর নিম ত্বকের ব্রণের জন্য ভালো, আর কফি পাউডার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় ও ডার্ক স্পট দূর করে।
তিশা: ২০২০ সালে আমি স্কিন কেয়ারের ওপর একটি কোর্স করি এবং সেখান থেকেই সাবান বানানো শিখি। ছয় মাস ধরে আমি নিজে এই প্রোডাক্টগুলো ব্যবহার করে দেখেছি যে এগুলো কতটা কার্যকর। এরপর নিজের পেজে প্রোডাক্টগুলো যোগ করি। আমার এই বিজনেসের শুরুটা হয়েছিল একদম শূন্য ইনভেস্টমেন্টে। একজন কাস্টমার আমাকে ৭০% টাকা অ্যাডভান্স করেছিলেন, সেই টাকা দিয়েই আমি প্রথম কাঁচামাল কিনি।
তিশা: ২০২১ সালের লকডাউনের সময় মানুষ ঘরে বসে অনলাইনে কেনাকাটা করত। তখন আমার কোনো প্রোডাক্ট স্টকে থাকত না, সব দ্রুত বিক্রি হয়ে যেত। এমনকি এক মাসে আমি ৮০-৯০ হাজার টাকার প্রোডাক্টও সেল করেছি। কিন্তু করোনা আমার জীবন থেকে আমার বাবাকে কেড়ে নিয়েছে। বাবার মৃত্যুর পর ছয় মাস আমি বিষণ্নতায় ভুগেছি এবং ব্যবসায় সাময়িক বিরতি পড়েছিল। তবে আমার নিয়মিত কাস্টমাররা আমার পাশে ছিলেন।
তিশা: সাবান তৈরির জন্য আমি গ্লিসারিন সোপ বেস ব্যবহার করি। প্রথমে বেসগুলো টুকরো করে কুসুম গরম পানিতে গলিয়ে নেই, তারপর তাতে ভিটামিন পাউডার, ই-ক্যাপসুল, কফি বা হলুদের গুঁড়ো মেশাই। আমি সিলিকন মোল্ডের বদলে কফির কাপ ব্যবহার করি, কারণ এতে সাবানটি পরিমাণে বেশি হয় এবং কাস্টমাররা সন্তুষ্ট থাকেন। আমার পেজে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় কফি সাবান ও নিম সাবান।
তিশা: এখন মাসে আমার এই পেজ থেকে ২০-২৫ হাজার টাকা লাভ থাকে। বাংলাদেশের এমন কোনো জেলা নেই যেখানে আমি পার্সেল পাঠাইনি। ১৪ বছর থেকে ৬০ বছর বয়সী মানুষ আমার সাবান ব্যবহার করেন। আমি চাই আমার এই অর্গানিক প্রোডাক্টগুলো আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এবং ত্বক সচেতনদের জন্য ভালো কিছু করতে।
তিশা: শুদ্ধতা আর সততা থাকলে যে কেউ শূন্য থেকে শুরু করে সফল হতে পারে। আমার এই অর্গানিক জার্নি সেটারই প্রমাণ।
ইউটিউব ভিডিও লিঙ্ক:



