ব্যাঙের ছাতা থেকে ‘মাশরুম আপা’: এক সফলতার রূপকথা
মাশরুম
গাইবান্ধার সফল মাশরুম চাষি ‘মাশরুম আপা’খ্যাত এক নারীর জীবন বদলানোর গল্প নিয়ে স্ক্রিপ্ট নিচে দেওয়া হলো:
ব্যাঙের ছাতা থেকে ‘মাশরুম আপা’: এক সফলতার রূপকথা
মাশরুম আপা: গত বছর মাত্র ৫০০০ টাকা খরচ করে অল্প জায়গায় চাষ শুরু করেছিলাম, সেখান থেকে ৩০,০০০ টাকা আয় হয়। এবার আমার লক্ষ্য ৫০,০০০ টাকা খরচ করে ৫ লাখ টাকা আয় করা। শুরুতে যখন মাশরুম নিয়ে কাজ শুরু করি, গ্রামের মানুষ আমাকে বিদ্রূপ করে বলত, ‘ব্যাঙের ছাতা যাচ্ছে’। কিন্তু এখন তারাই আমাকে ‘মাশরুম আপা’ বলে সম্মান করে।
মাশরুম আপা: আমি গ্রামের ৩০ জন মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়ে রংপুর হর্টিকালচারে পাঠিয়েছি। মানুষ এখন বোঝে যে অল্প জায়গাতেও মাশরুম চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। আমি ওয়েস্টার জাতের মাশরুম চাষ করি, যা শীতে খুব ভালো ফলন দেয়। আমি আমন ধানের খড় ২ ইঞ্চি করে কেটে, তা জীবাণুমুক্ত করার জন্য সিদ্ধ করে প্যাকেটিং করি। এরপর মাদার মিক্স করে ছিদ্র করে দিই যাতে অক্সিজেন পায়। ২০ দিন ওয়েটিং রুমে রাখার পর পানি স্প্রে করলে এক সপ্তাহের মধ্যেই মাশরুম হারভেস্ট করা যায়।
মাশরুম আপা: মাশরুম আর ব্যাঙের ছাতা এক নয়। এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে। শীতকালে এর উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা কম থাকে, তবে গরমকালে ৬০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হয়। একটি প্যাকেটে ৫০ টাকা খরচ করে সহজেই ১০০ থেকে ১৫০ টাকা লাভ করা সম্ভব।
মাশরুম আপা: আমার জীবনটা কষ্টের ছিল। এক সময় গার্মেন্টসে চাকরি করতাম। স্বামীর সাথে ঝগড়া হয়ে আলাদা হয়ে গিয়েছিলাম। তখন নিজের গলার চেইন বিক্রি করে পার্লারের কাজ শিখেছিলাম। পরে স্বামী আবার আমাকে ফিরিয়ে আনে এবং তার সহযোগিতায় পার্লার দিয়ে স্বাবলম্বী হই। কিন্তু পার্লার সমাজ ভালো চোখে দেখে না এবং করোনার সময় ব্যবসাও মন্দা ছিল। তখনই ইউটিউব দেখে মাশরুম চাষে আগ্রহী হই। সাভার মাশরুম ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আমি এখন সফল।
মাশরুম আপা: আমার ইচ্ছে এই গ্রামটিকে একটি ‘মাশরুম পল্লী’ হিসেবে গড়ে তোলা। আমি এখানে একটি নিজস্ব ল্যাব তৈরি করতে চাই, যেখানে টিস্যু কালচার আর মাদার তৈরি হবে। গ্রামের মানুষ আমার কাছ থেকে বীজ নিয়ে চাষ করবে আর আমি তাদের উৎপাদিত মাশরুম কিনে বাজারজাত করব।
মাশরুম আপা: মাশরুমের ব্যবসায় কোনো লস নেই। সততা আর পরিশ্রম থাকলে ব্যাঙের ছাতা দিয়েও ভাগ্য বদলানো সম্ভব।
ইউটিউব ভিডিও লিঙ্ক:



