২ টাকার লুঙ্গি আর ৫ টাকার ব্লাউজ: সেলাই করে ভাগ্য বদলানো এক নারীর গল্প
নারীর গল্প
গাইবান্ধার এক সংগ্রামী নারীর জিরো থেকে হিরো হওয়ার গল্প নিয়ে স্ক্রিপ্ট নিচে দেওয়া হলো:
২ টাকার লুঙ্গি আর ৫ টাকার ব্লাউজ: সেলাই করে ভাগ্য বদলানো এক নারীর গল্প
নারী: একটা সময় ছিল যখন ২ টাকায় লুঙ্গি আর ৫ টাকায় ব্লাউজ সেলাই করতাম। সেই টাকা জমিয়ে জমিয়ে আজ আমি লাখ টাকার জমির মালিক। হাঁস-মুরগি বেচেছি, রাত জেগে কাপড় সেলাই করেছি। এভাবেই একটু একটু করে টাকা জমিয়ে ১৪,০০০ টাকা দিয়ে প্রথম এই জমিটুকু কিনেছিলাম।
নারী: সেলাই শেখাটা ছিল আমার কাছে এক নেশার মতো। যখন ক্লাস সিক্সে পড়তাম, স্কুল থেকে ফিরেই জেঠার কাজে সাহায্য করতাম। জেঠা যখন উঠে যেতেন, আমি চুপিচুপি মেশিনে বসে কাপড় সেলাই করার চেষ্টা করতাম। সাহস করে কাপড় কাটতে পারতাম না। দাঁত মাজার কয়লা দিয়ে কাপড়ে দাগ দিতাম আর ১০ টাকার ছোট্ট একটা কাঁচি দিয়ে কাপড় কাটতাম। ডিজাইন দেখে দেখে কাগজের ওপর দাগ দিয়ে প্র্যাকটিস করতাম।
নারী: বিয়ের পর স্বামীর সংসারে এসে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করি। স্বামী কাপড় নিয়ে আসতেন, আর আমি দিনরাত সেলাই করতাম। দিনে ১৫-২০টা পর্যন্ত পোশাক সেলাই করেছি। ঈদ এলে তো কাজের চাপে দম ফেলার সময় থাকত না। ৩০০০-৪০০০ টাকা পর্যন্ত এক ঈদে কামাই করেছি। সেই কামাই করা টাকা দিয়েই আজকের এই বাড়ি আর ঘর করা।
নারী: স্বামী মারা যাওয়ার পর কিছুদিন খুব কষ্টে কেটেছে। এখন ছেলেদের নিয়ে আবার নতুন করে দোকানটা শুরু করেছি। এখন আমি ছোট বাচ্চাদের প্যান্ট, শার্ট, পাজামা, থ্রিপিস সব বানাই। এখন আমার দোকানে তিনজন কারিগর কাজ করেন। আমি শুধু কাপড় কাটি আর মাপ নেই, বাকিরা সেলাই করে। মানুষের প্রয়োজনে নিজেই কেটে দিই, আবার তাদের পছন্দমতো ডিজাইন করে দেই।
নারী: আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো এই দোকানটাকে আরও বড় করা। এখন যেমন উন্নতি হচ্ছে, আশা করি সামনে আরও ভালো কিছু করতে পারব। আমার ছেলেরা শিখছে, আমি আছি—এভাবেই আমাদের দিনগুলো কেটে যাচ্ছে।
ইউটিউব ভিডিও লিঙ্ক:



