জামদানি নকশার কাঁথায় আন্তর্জাতিক বাজিমাত
উদ্যোক্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাঙালি লোকশিল্পের ঐতিহ্যবাহী নকশী কাঁথায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন এক নারী উদ্যোক্তা। আমাদের চিরচেনা জামদানি শাড়ির অনন্য ডিজাইনকে সূচিশিল্পের মাধ্যমে সুতি কাঁথায় ফুটিয়ে তুলে তিনি তৈরি করেছেন এক নতুন দৃষ্টান্ত। সামান্য ৫০০ থেকে ২০০০ টাকার কাঁচামাল দিয়ে শূন্য থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে আজ যুক্ত হয়েছেন গ্রামের প্রায় ৫০ জন অসচ্ছল নারী কর্মী। দেশীয় বাজারের গণ্ডি পেরিয়ে তাদের নিপুণ হাতে সেলাই করা এই নকশী কাঁথা এখন রফতানি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও অস্ট্রেলিয়ায়।
উদ্যোক্তা জানান, গ্রাম্য নারীদের বেকারত্ব দূর করা এবং তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার তাগিদ থেকেই মূলত এই উদ্যোগের সূচনা। নিজস্ব চিন্তা ও নিখুঁত ফিনিশিং ধরে রাখতে তারা নতুনদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলেছেন। কাস্টমাইজড অর্ডারের বাইরে প্রতিটি কাঁথার ডিজাইনই সম্পূর্ণ মৌলিক এবং নতুনত্বে ভরা।
পণ্যের ভিন্নতা সম্পর্কে তিনি জানান, সাধারণ কাঁথার চেয়ে আলাদা করতে এগুলো ৩ পার্টে ভালো মানের সুতি ও ভয়েস কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয়। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া জামদানি মোটিফের সুপার কিং সাইজ ফ্যামিলি কাঁথার চাহিদা এখন শীর্ষে, যার মূল্য রাখা হচ্ছে ৬,৫০০ টাকা। এতে প্যাচওয়ার্ক ও ঐতিহ্যবাহী শাড়ির নকশাও সুনিপুণভাবে যুক্ত করা হয়।
উদ্যোগের শুরুটা সহজ ছিল না। পারিবারিক সমালোচনা এবং পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লজিস্টিক জটিলতা পার করে গভীর রাতেও কুরিয়ার সার্ভিসে গিয়ে কাঁথা পৌঁছে দেওয়ার মতো অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে প্রতি মাসে তার ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার কাঁথা বিক্রি হয়।
অর্জিত লভ্যাংশের ২ শতাংশ অর্থ তিনি একটি তহবিলে জমান, যা থেকে জরুরি প্রয়োজনে কর্মীদের বিনা সুদে বা আপদকালীন সময়ে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। আগামীতে নিজস্ব শো-রুম বা আউটলেট প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ঐতিহ্যবাহী এই নকশী কাঁথার বাজার আরও সম্প্রসারণ করার লক্ষ্য রয়েছে এই উদ্যোক্তার।
