ব্রয়লার-লেয়ারে সর্বস্বান্ত হয়ে হাঁস পালনে ভাগ্য বদল

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যবসায় বড় অংকের লোকসান গুনে সর্বস্বান্ত হয়ে যাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ানোর এক সফল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক উদ্যোক্তা। মুরগি পালনে বারবার হোঁচট খেয়ে অবশেষে হাঁস পালনকে বেছে নিয়ে তিনি এখন নিজের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন।

উদ্যোক্তা জানান, এর আগে তিনি ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগি পালন করেছিলেন। কিন্তু মুরগি পালনে ঘন ঘন রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাব ও কাঙ্ক্ষিত লাভ না পাওয়ায় তাকে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার লোকসান গুনতে হয়। সেই ঋণ শোধ করতে শেষ পর্যন্ত জমি পর্যন্ত বন্ধক রাখতে হয়েছিল তাকে। পরবর্তীতে মুরগির তুলনায় হাঁসের রোগবালাই অনেক কম হওয়া এবং বাজারে হাঁসের ডিমের দাম বেশি থাকায় তিনি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্তভাবে হাঁস পালনের সিদ্ধান্ত নেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে মাত্র ৩০ টাকা মূল্যে ৪০০টি হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহ করে এই খামার শুরু করেন তিনি। বর্তমানে খামারে থাকা হাঁসগুলো বিক্রি করলে বাজারদর অনুযায়ী প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার টাকার ওপরে পাওয়া সম্ভব। হাঁসগুলোকে উন্মুক্ত স্থানে না ছেড়ে সুনির্দিষ্ট নিয়মে দিনে তিনবার গম ও পুষ্টিকর দানাদার খাবার সরবরাহ করা হয়। খামারের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে খাদ্যে কোনো ঘাটতি রাখেন না তিনি।

খামারের হাঁস সাড়ে পাঁচ মাসের মাথায় পুরোদমে ডিম দেওয়া শুরু করে। বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ উৎপাদন হারে প্রতিদিন গড়ে ২৬০টির বেশি ডিম পাওয়া যাচ্ছে। পাইকারি বাজারে প্রতি পিস ডিম ১৪ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হওয়ায় প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকার ডিম বিক্রি হয়। এর বিপরীতে খাদ্য ও ওষুধ বাবদ দৈনিক খরচ হয় প্রায় আড়াই হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে বর্তমানে তার মাসিক নিট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকায়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, খামারটিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার এবং হাঁসের সংখ্যা ও পুকুর বাড়ানোর জোরালো পরিকল্পনা রয়েছে তার।