মাত্র একটি সিদ্ধান্তে সাড়ে ৪ লাখের বদলে মিলল ১০ লাখ টাকার মাছ

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঐতিহ্যবাহী সনাতন পদ্ধতি ছেড়ে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও আধুনিক ব্যবস্থাপনাকে গ্রহণ করতেই ঘুরে গেল ভাগ্যের চাকা। যেখানে ৩ বিঘা পুকুর থেকে আগে বছরে মাত্র সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হতো, সেখানে আধুনিক ‘অ্যারেটর’ (অক্সিজেন মেশিন) ও সঠিক পরিচর্যার বদৌলতে এবার একই পুকুর থেকে মিলছে ১০ লাখ টাকারও বেশি মাছ।

মৎস্য চাষী জানান, তার ১০০ শতক (৩ বিঘা) আয়তনের পুকুরে রুই, কাতল, মৃগেল, কার্পু, গ্রাস কার্প, পাঙ্গাস, শিং, পাবদা ও তেলাপিয়াসহ নানা প্রজাতির মাছ চাষ করছেন। আগে সকালে অক্সিজেনের অভাবে মাছ ভেসে ওঠা এবং মড়ক লাগার মতো বড় প্রবলেম দেখা দিত। তবে এসকেএস (SKS) ফাউন্ডেশনের আরএমটিপি (RMTP) প্রকল্পের আওতায় অনুদান হিসেবে পাওয়া ‘অ্যারেটর’ ব্যবহারের পর চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। সকালে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট এই মেশিনটি চালালেই পানিতে অক্সিজেনের অভাব দূর হয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, আগে তিনি না বুঝে অতিরিক্ত ওষুধ বা গ্যাসের ট্যাবলেট ব্যবহার করতেন, যা মাছের ক্ষতি করত। বর্তমানে বৈজ্ঞানিক নিয়মে পুকুর পুরোপুরি শুকিয়ে সঠিক মাত্রায় চুন ও প্রোবায়োটিক প্রয়োগ করেন। পানির পিএইচ (pH) ও অ্যামোনিয়া পরীক্ষা করে গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানসম্মত রেডি ফিড দিনে ৩ বেলা মাছকে দেওয়া হয়। পুকুরের চারপাশে জাল (নেট) দেওয়ার ফলে সাপের আক্রমণ থেকেও রক্ষা মিলছে।

সঠিক পরিচর্যার ফলে বর্তমানে তার পুকুরের পাঙ্গাস ও কার্পু মাছ ১.৫ থেকে ২ কেজি, গ্রাস কার্প ২ কেজি এবং তেলাপিয়া ৩টিতে ১ কেজি ওজনে উন্নীত হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি সাড়ে ৪ লাখ টাকার মাছ বিক্রি সম্পন্ন করেছেন এবং চলতি মৌসুমে সর্বমোট ১০ লাখ টাকার বেশি মাছ বিক্রির ব্যাপারে পুরোপুরি আশাবাদী।

এছাড়া বহুমাত্রিক আয়ের অংশ হিসেবে তিনি পুকুর পাড়ে পেঁপে ও গরুর জন্য ঘাস চাষ করছেন, যা থেকে বাড়তি উপার্জন আসছে। ভবিষ্যতে এককভাবে উন্নত জাতের শিং, মাগুর বা পাবদা মাছ বড় পরিসরে চাষ করার পরিকল্পনা করছেন এই সফল মৎস্য চাষী।