পায়ে ফোঁড়া ও চাকরি হারিয়ে ককশিটের কারুশিল্পে ভাগ্য বদল করলেন

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবনের চরম প্রতিকূলতা ও অভাবের সাথে লড়াই করে ভাগ্য বদলের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন গাইবান্ধার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। পায়ে বিষফোড়া এবং আকস্মিক চাকরি হারানোর ফলে জীবনের মোড় ঘুরে যায় তার। একসময়ের বেকার যুবক আজ ককশিটের নান্দনিক কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং স্থানীয়ভাবে বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন।

জানা যায়, নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় হঠাৎ বাবা মারা যাওয়ায় পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে চাপে এবং চরম আর্থিক সংকটের কারণে পড়ালেখা বন্ধ করে ঢাকায় পাড়ি জমান আনোয়ার। ঢাকার শাহবাগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময় পায়ে বিষফোড়া ওঠার কারণে টানা ১০-১৫ দিন কাজে অনুপস্থিত থাকায় তাকে চাকরি হারাতে হয়। বেকার অবস্থায় পরিচিত এক ভাইয়ের মাধ্যমে শাহবাগের প্রাচীন ‘সানফ্লাওয়ার’ ফুলের দোকানে কাজের সুযোগ পান এবং সেখানে ককশিট বা সোলার কারুশিল্পের কাজ আয়ত্ত করেন।

বর্তমানে তিনি গায়ে হলুদের স্টেজ সাজানো, কমিউনিটি সেন্টারের ব্যাকগ্রাউন্ড, ১৬ ডিসেম্বর ও পহেলা বৈশাখের বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন এবং মন্দিরের পূজা মণ্ডপের ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরির কাজ করছেন,। কোনো ধরনের মার্কার বা ড্রয়িং ছাড়া শুধু অ্যান্টি-কাটারের সাহায্যে ককশিটে নিখুঁত খোদাই ও আল্পনা ফুটিয়ে তুলতে তার জুড়ি মেলা ভার।

বর্তমানে তিনি গাইবান্ধার ১ নম্বর ট্রাফিক মোড় সংলগ্ন আসাদুজ্জামান মার্কেটের নিচের ফুলের দোকান সারিতে নিজের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এই ব্যবসা থেকে তার মাসিক আয় ১৫ হাজার থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। শত প্রতিকূলতা পেরিয়েও হার না মানা মানসিকতা নিয়ে তিনি ককশিটের এই কাজকেই নিজের পেশ ও জীবনিকা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।