মহিলা কেন দোকানদার সমাজের কটূক্তিকে শক্তিতে রূপান্তর করে সফল নারী উদ্যোক্তা ও প্রশিক্ষক

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: “নারী কেন দোকান চালাবে?” কিংবা বয়স বাড়লে মানুষ কেন ঘরমুখী হবে—এমন সব সামাজিক ও মানসিক বাঁধাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জীবিকা এবং আত্মমর্যাদার এক অনন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এক অদম্য নারী। সমাজের ভ্রূকুটি ও নানা কটূক্তিকে গায়ে না মেখে নিজের মেধা, পরিশ্রম আর সাহসিকতায় বুটিক ব্যবসা ও নারী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি এলাকার প্রমিলা সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল রোল মডেল হয়ে উঠেছেন।

৫০ বছরোর্ধ্ব এই নারী উদ্যোক্তা দীর্ঘ এক দশক ধরে বুটিক ও হস্তশিল্পের সাথে যুক্ত রয়েছেন। রংপুর থেকে ব্লক-বাটিকের কাজ শিখে প্রথমে কুশন কভার তৈরির মাধ্যমে শুরু করলেও আজ তার দোকানে রয়েছে নানা ডিজাইনের শাড়ি, থ্রি-পিস, ওড়না ও শিশুদের পোশাক। গুণগত মানসম্মত কাপড় এবং টেকসই রঙের কারণে তার তৈরি পণ্যের চাহিদা বেশ ভালো। ব্র্যাক ও এসকেএস সংস্থার পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি এলাকার আগ্রহী নারীদের হাতের কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলছেন। সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত শোরুমেই কাটে তার কর্মব্যস্ত সময়। অতীতে বড় অংকের আর্থিক লোকসানের শিকার হলেও তিনি মনোবল হারانনি। সমাজের কটূক্তিকে কেবল মুচকি হাসিতে উড়িয়ে দিয়ে তিনি সামনের দিকে এগিয়ে চলেছেন।

নারী শক্তির এই অবিচল পথচলা প্রমাণ করে—দৃঢ় ইচ্ছেশক্তি ও সততা থাকলে যে কোনো প্রতিকূলতা পেরিয়ে নিজের ভাগ্য বদলানোর পাশাপাশি সমাজেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।