নিজস্ব পুকুর নেই বসতবাড়ির উঠানে ট্যাংক বসিয়ে মাছ চাষ

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাছ চাষের জন্য বিশাল পুকুর থাকা চাই—এই প্রচলিত ধারণাকে একেবারে বদলে দিয়েছেন সেলিম নামে এক উদ্যোক্তা। নিজস্ব কোনো পুকুর না থাকা সত্ত্বেও বাড়ির উঠানে ছোট একটি পাকা ট্যাংক তৈরি করে বিষমুক্ত মাছ ও মাচায় সবজি চাষ করে বাজিমাত করেছেন তিনি।

সেলিম জানান, এসকেএস (SKS) ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইউনিয়ন পরিষদে মৎস্য চাষের প্রশিক্ষণ নেওয়ার মাধ্যমেই তার এই যাত্রার শুরু। নিজের পুকুর নেই শুনে সংস্থাটি তাকে একটি আধুনিক ট্যাংক তৈরির পরামর্শ দেয় এবং ৫০,০০০ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করে।

বাড়ির উঠানে প্রায় এক শতক জমিতে ২০ ফিটের একটি পাকা ট্যাংক নির্মাণে খরচ হয় প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। এরপর ঢাকার গাজীপুর থেকে ২,০০০টি মোনোসেক্স তেলাপিয়া মাছের পোনা এনে ট্যাংকে ছাড়েন তিনি। পোনা কেনা ও খাবার বাবদ তার মোট খরচ হয় প্রায় সাড়ে ১১ হাজার টাকা।

মাছের বৃদ্ধি বজায় রাখতে প্রথম দেড় মাস পর ঘনত্ব কমাতে ১,০০০ মাছ বিক্রি করেন ৭,০০০ টাকায়। দুই-আড়াই মাস পর আরও ৮০০ মাছ প্রতি পিস ১০ টাকা দরে বিক্রি করেন। অবশিষ্ট মাছগুলোর বর্তমান ওজন এতই ভালো যে, ৩টিতেই এক কেজি হচ্ছে। ইতোমধ্যে তিনি খরচ তুলে ১১,৭৭০ টাকা লাভ করেছেন এবং ট্যাংকে এখনো প্রায় ৫০ কেজি মাছ অবশিষ্ট রয়েছে।

সুবিধাজনক বিষয় হলো—এই ট্যাংকের উপর বাঁশের মাচা তৈরি করে লাউ ও তোরাই (ঝিঙে) চাষ করছেন সেলিম। সেখান থেকে পরিবারে সবজির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি প্রায় দেড় হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছেন তিনি।

সাধারণ পুকুরের নোংরা পরিবেশ কিংবা পোল্ট্রির বর্জ্যমুক্ত সম্পূর্ণ পরিষ্কার পানিতে রেডিমেড ফিড খাইয়ে তেলাপিয়া চাষ করায় ফলের বিষমুক্ততা ও গুণগত মান নিশ্চিত হয়েছে। তার এই সফলতা দেখে উপজেলা মৎস্য বিভাগ থেকে তাকে লাইসেন্স ও প্রশংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। আশেপাশের অনেক মানুষ তার এমন সমন্বিত উদ্যোগ দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজ বাড়িতে ব্যাংক চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।