ডিশ ধোয়ার কাজ থেকে সফল রেস্টুরেন্ট মালিক
উদ্যোক্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক: থালা-বাসন ধোয়ার সাধারণ এক হোটেল কর্মচারী থেকে কঠোর পরিশ্রম ও মেধা দিয়ে আজ নিজ শহরের নামকরা শেফ ও তরুণ উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন গাইবান্ধার তরুণ বিপুল। মাত্র ৮-৯ হাজার টাকা ইনভেস্ট করে শুরু করা হোম কিচেন থেকে আজ প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ হাজার টাকার খাবার বিক্রি করছেন তিনি।
বিপুলের জীবনের গল্পটা মোটেও মসৃণ ছিল না। মাত্র ৬ হাজার টাকা বেতনে থালা-বাসন ধোয়ার (ডিশ ওয়াশার) কাজ দিয়ে শুরু হয়েছিল তার কর্মজীবন। রান্নার প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে শেফ হওয়ার স্বপ্ন জাগে মনে। টাঙ্গাইলে চার বছর এবং ভারতের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে টানা চার বছর কাজ করে মেক্সিকান, ইতালিয়ান, ফাস্টফুড ও ইন্ডিয়ান রান্নার কৌশল রপ্ত করেন তিনি।
নিজের জেলা গাইবান্ধায় ফিরে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ক্ষুধা লাগছে’ ও ‘গাইবান্ধা শেফ কিচেন’-এর মাধ্যমে হোম কিচেন চালু করেন। নিজস্ব রেসিপি ও স্পেশাল মসলায় খাবার তৈরি শুরু করেন তিনি। একটি বাই ওয়ান গেট ওয়ান অফার চালুর পর অনলাইনে পাওয়া একটি রিভিউতেই রাতারাতি বদলে যায় তার ব্যবসা। চারদিক থেকে আসতে শুরু করে প্রচুর অর্ডার।
বর্তমানে তার খাবারের তালিকায় রয়েছে বার্গার, পিজ্জা, চিকেন ফ্রাই, নাচোস ও ভাইরাল চিপস মাখাসহ হরেক রকমের আইটেম। এছাড়া সাধারণের সাধ্যের মধ্যে মাত্র ৬০ টাকায় ভিআইপি বিরিয়ানি এবং শহরের সর্বনিম্ন দাম অর্থাৎ ৩০০ টাকা কেজিতে পরিবেশন করছেন সুস্বাদু রসমালাই।
রান্না করতে গিয়ে তান্দুরি চা তৈরির গরম কাপে হাত ডিপ বার্ন হওয়া কিংবা গ্যাসের চুলায় চুল-ভ্রু পুড়ে যাওয়ার মতো বহু দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন বিপুল। তবে খাবারের গুণগত মান বজায় রেখে ‘রিপিট কাস্টমার’ ধরে রাখাই তার মূল সাফল্য বলে মনে করেন তিনি।
গাইবান্ধা উপজেলার তেঁতুলতলা এলাকায় তেঁতুল গাছের নিচে পরিচালিত এই হোম কিচেনকে এবার বড় রেস্টুরেন্টে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বিপুল। পাশাপাশি গাইবান্ধায় সর্বপ্রথম সিফুড (Seafood) এবং অ্যারাবিয়ান কাবাব চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই তরুণ শেফ।
