সাপের সাথেই ২৫ বছরের সংসার

জীবনযুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিষধর সাপের নাম শুনলেই যেখানে সাধারণ মানুষের গা শিউরে ওঠে, সেখানে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সাপের সাথে রীতিমতো সংসার করছেন এক প্রবীণ সর্পুড়ে। সাপ ধরাই যার নেশা, আর সাপ খেলা দেখিয়েই চলে তার সংসার ও জীবন-জীবিকা।

সংসারের চরম অভাব-অনটন আর বড় ভাই তোফাজ্জলের অনুপ্রেরণায় ২৫ বছর আগে এই ভয়ংকর পেশায় পা রাখেন তিনি। প্রথম দিন একটি গোখরা সাপ ধরার স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, সেদিন ভয়ে থরথর করে কাঁপছিল গা, মনে হয়েছিল বাঁচবেন না। তবে সময়ের সাথে সাথে সাহস আর অভিজ্ঞতা দুটোই বেড়েছে। এরপর ঠাকুরবাড়ির মন্দির, নীলিরকুটি, ভগবানপুরসহ বিভিন্ন দুর্গম স্থান থেকে ধরে এনেছেন দুধরাজ, দাঁড়াশ ও গোখরার মতো বিপজ্জনক সাপ।

সাপ ধরে আনার পর কৌশলে লাঠি ও চাকু বা কাঠের সহায়তায় সাপের বিষদাঁত/বিষ নিষ্কাশন করেন তিনি। সপ্তাহে তিন-চার দিন ব্যাঙ কিংবা হাট থেকে গড়াই মাছ কিনে এনে সাপের খাবারের ব্যবস্থা করেন। শীতকালে অবশ্য সাপের খাবারের চাহিদা কিছুটা কমে যায়।

বিভিন্ন গ্রামীণ হাটে গিয়ে ঢোল ও বাঁশি বাজিয়ে খেলা প্রদর্শন করেন তিনি। হাটুরে দর্শকরা খুশি হয়ে ৫ টাকা, ১০ টাকা করে যা দেয়—তাতেই দিনে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। এই উপার্জনের একটি অংশ চলে যায় সাপের পেছনে, বাকিটা দিয়ে তিনি নিজে দু’বেলা দু’মুঠো ভাত খাওয়ার সংস্থান করেন।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন সাপের কামড় খাওয়া সত্ত্বেও পেশা ছাড়েননি তিনি। তার মতে, সাপ কখনো কোনো মানুষকে যেচে আঘাত করে না; আক্রমণ কিংবা ক্ষতির মুখোমুখি না হওয়া পর্যন্ত সাপ শান্ত থাকে। বয়স বাড়লেও বিকল্প উপার্জন না থাকায় আজও সাপের বাক্স কাঁধে নিয়ে হাটে হাটে ঘুরে চলছেন এই জীবনসংগ্রামী প্রবীণ।