দিনমজুর থেকে ২০ লাখ টাকার মালিক

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: একদিন যিনি দিনমজুর খেটে সন্তানদের মুখে ঠিকমতো দু’বেলা ভাত তুলে দিতে পারতেন না, চরম অভাব-অনটনে কাটে যার দিনকাল—সেই মানুষটিই আজ নিজ এলাকায় অর্থনৈতিক সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত! বলছি গাইবান্ধার পরিশ্রমী চাষি আব্দুল গফুরের কথা, যিনি প্রথাগত ফসল ছেড়ে কেবল ঘাস চাষ করেই লাখপতি হয়েছেন এবং অর্জন করেছেন জাতীয় কৃষি পদক।

গাইবান্ধার সুজনপুর পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল গফুর প্রায় দুই দশক আগে চরম অভাবের মুখে পড়ে পরীক্ষামূলকভাবে মাত্র ৫ শতক জমিতে ঘাস চাষ শুরু করেন,। সমতলে মানুষের খাদ্যের বদলে গরুর ঘাস চাষ করতে দেখে তখন গ্রামের অনেকেই তাকে ‘পাগল’ বলে উপহাস করেছিলেন। তবে প্রথম ধাপে ৫০ আঁটি ঘাস তুলে বাজারে ৫০০ টাকায় বিক্রি করার পর তিনি হিসাব কষে দেখেন—ধান, পাট কিংবা অন্য যেকোনো ফসলের চেয়ে ঘাস চাষে শ্রম ও খরচ কম কিন্তু লাভ দ্বিগুণেরও বেশি,।

বর্তমানে তিনি মূলত তিন জাতের—নেপিয়ার, পাকচং ও হাইব্রিড নেপিয়ার ঘাসের চাষ করছেন। তার মতে, একবার জমিতে ঘাসের চারা লাগালে টানা তিন বছর পর্যন্ত নিয়মিত ঘাস কেটে বিক্রি করা যায়। প্রথম বিঘাতে শুরুতেই প্রায় ১০,০০০ টাকা খরচ হলেও পরবর্তীতে পানি ও সামান্য সার বাবদ মাত্র দুই-তিন হাজার টাকা খরচ হয়,।

বর্তমানে আব্দুল গফুর ও তার তিন ছেলে মিলে প্রায় ২০ থেকে ২২ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ঘাস চাষ করছেন,। প্রতিদিন ভ্যানবোঝাই করে গাইবান্ধার ঢোলভাঙ্গা, পরলার বাজার, বালাসীঘাটসহ বিভিন্ন পয়েন্টে স্থানীয় খামারি ও ব্যাপারিদের কাছে ঘাস বিক্রি করা হয়। খুচরা ও পাইকারি মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১,০০০ টাকা হিসেবে প্রতি মাসে তার আয় হচ্ছে প্রায় ৩০,০০০ টাকা,।

ঘাস বিক্রি করেই আব্দুল গফুর চার বিঘা জমি বন্ধক নিয়েছেন, তৈরি করেছেন পাকা দেয়ালের বাড়ি,। অর্থের অভাবে একসময় পড়াশোনা করাতে না পারলেও ঘাসের উপার্জনে সন্তানদের আইএ পাস করিয়েছেন এবং ছোট ছেলে এখন সফল প্রাণিসম্পদ পল্লী চিকিৎসক হিসেবে নিয়োজিত,।

কৃষিতে এই অসামান্য ও অনুকরণীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে তিনি লাভ করেন সম্মানজনক ‘প্রধানমন্ত্রী কৃষি পদক’। আব্দুল গফুরের এই সাফল্য দেখে এখন এলাকার বহু বেকার যুবক ও কৃষক উদ্বুদ্ধ হয়ে বাণিজ্যিক ঘাস চাষে ঝুঁকছেন।