মাত্র ৪ হাজার টাকার ডেলিভারিম্যান থেকে রেস্টুরেন্ট মালিক
উদ্যোক্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক: মায়ের আকস্মিক অসুস্থতা ও চরম পারিবারিক সংকট কাটিয়ে ওঠার তাগিদে ২০২৩ সালে মাত্র ৪,০০০ টাকা বেতনে ডেলিভারিম্যান হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন এক সাধারণ কলেজ শিক্ষার্থী। একই দিনে পড়াশোনা, তিন-চারটা টিউশনি আর পার্টটাইম ডেলিভারির কাজ সামলে আজ তিনি সেই রেস্টুরেন্টেরই শতভাগ মালিক! বলছি গাইবান্ধার পরিশ্রমী তরুণ উদ্যোক্তা ও ‘বাঁশের বাড়ী চাইনিজ রেস্টুরেন্ট’-এর স্বত্বাধিকারীর কথা।
২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে কলেজে প্রথম বর্ষে পড়ার সময় তার মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন,। জরুরি অপারেশনের টাকা জোগাতে চরম হিমশিম খেতে হয় পরিবারকে। জীবনযুদ্ধের মুখোমুখি হয়ে জুন মাসে ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত একটি রেস্টুরেন্টে ডেলিভারিম্যানের কাজে যুক্ত হন তিনি। সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সময় ভাগ করে টিউশনি, কলেজ ও ডেলিভারির কাজ একাই সামলেছেন পরম ধৈর্যের সাথে।
রেস্টুরেন্ট ব্যবসার প্রতি গভীর আগ্রহ থাকায় মনোযোগ দিয়ে শেখেন ভেতরের সব কাজকর্ম। তার সততা ও দক্ষতা দেখে মালিক পক্ষ তাকে ওয়েটার থেকে পদোন্নতি দিয়ে এক বছরের মাথায় একাই ম্যানেজার হিসেবে পুরো রেস্টুরেন্ট সামলানোর দায়িত্ব দেয়,।
পরবর্তীতে রেস্টুরেন্টটির মালিক এটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিলে বিপাকে পড়েন তিনি। তবে এক বিশ্বস্ত বন্ধুর আর্থিক সহযোগিতায় যৌথভাবে রেস্টুরেন্টটি কিনে নেন তারা। পরে বন্ধু বিদেশে চলে গেলে তার শেয়ারের টাকাও বুঝিয়ে দিয়ে রেস্টুরেন্টটির একক মালিকানা গ্রহণ করেন এই তরুণ উদ্যোক্তা,।
গাইবান্ধা শহরে ব্যতিক্রমী আবহ তৈরি করতে পুরো ডেকোরেশনে পরিবেশবান্ধব বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। রেস্টুরেন্টটিতে সুস্বাদু পাস্তা, চিকেন চাপ ও পোশিনা রুটি দারুণ সমাদৃত,। বর্তমানে তাদের প্রতিদিন গড়ে বেশ ভালো অংকের খাবার বিক্রি হচ্ছে।
ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি গ্রাহকদের ভালোবাসাকে সম্বল করে ভবিষ্যতে রেস্টুরেন্টটিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি,। গাইবান্ধা পৌর পার্কের দক্ষিণে ইউসি টেকনোলজি সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত ব্যতিক্রমী এই বাঁশের তৈরি রেস্টুরেন্টটি এখন ভোজনরসিকদের এক পছন্দের ঠিকানা।
