এক গাছে ১০০ বোল ধরে তুলা চাষে ভাগ্য বদলালো জামিরুলের

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: একসময় দিনমজুর বা রাজমিস্ত্রি হিসেবে অন্যের কাজ করে পরিবার চালাতে গিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটতো তার। দৈনিক যা আয় হতো, তা দিয়ে সংসারের চাহিদা মেটানোই ছিল দুষ্কর। তবে সেই অনিশ্চিত দিনগুলো অতীত করে আজ তিনি একজন সফল ও স্বাবলম্বী কৃষক। তুলা চাষের বদৌলতে নিজের ভাগ্য বদলে লাখপতি হয়েছেন গাইবান্ধার জামিরুল হক।

গাইবান্ধা জেলার সুলতানপুর বাড়াইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জামিরুল হক জানান, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের পরামর্শেই প্রথম তিনি তুলা চাষে আগ্রহী হন,। তারা গ্রামে এসে জামিরুলের জমি পরিদর্শন করে তুলা চাষের উপযোগী বলে নিশ্চিত করেন। এরপর ৫০ শতক জমিতে ২,৫০০ টাকার বীজ কিনে তুলা চাষ শুরু করেন তিনি। সরকারি সহায়তা হিসেবে সারসহ আরও প্রায় ৮,০০০ টাকার প্রণোদনা লাভ করেন।

জামিরুল জানান, সঠিক পরিচর্যা ও ১৪-১৫ দিন পরপর স্প্রে করায় তুলার ফলন চমৎকার হয়েছে। তার বাগানের একেকটি গাছে সর্বনিম্ন ৪০টি থেকে শুরু করে ৮০, ৯০ এমনকি ১০০টি পর্যন্ত বোল (ফল) এসেছে। ৬ মাস পর জমি থেকে তুলা সংগ্রহ করে শুকানোর পর তা পলাশবাড়ী তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ইউনিট অফিসে প্রতি কেজি ১০০ টাকা বা প্রতি মণ ৪,০০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়,।

বর্তমান ৫০ শতক জমির তুলা বিক্রি করে তিনি অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আয়ের আশা করছেন।

রাজমিস্ত্রির কাজ ছেড়ে পুরোদস্তুর তুলা চাষে এসে জামিরুল এখন বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার চালাচ্ছেন,। এককালীন মোটা অংকের টাকা হাতে পাওয়ায় তুলা চাষ থেকে অর্জিত আয় দিয়ে তিনি ইতোমধ্যে প্রায় ৭-৮ লাখ টাকার জমি কিনেছেন এবং পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন,,। এছাড়া তুলার মৌসুম শেষে একই জমিতে পাট, ধান বা ভুট্টা চাষ করে অতিরিক্ত আয় করছেন তিনি। জামিরুলের এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও এখন তুলা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।