মালচিং পেপার ও সেচ প্রযুক্তিতে কৃষি বিপ্লব

কৃষি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেচের পানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি শ্রম খরচ কমিয়ে আশাতীত সফলতা পাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। ড্রিপ সেচ প্রযুক্তি ও মালচিং পেপার ব্যবহার করে থাই পেয়ারা ও বেগুনের বাম্পার ফলন পেয়ে মুখে হাসি ফুটেছে কৃষকদের।

বিন্যাসাপুর এলাকার কৃষক রাসেল মানিক জানান, গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের সহযোগিতায় তিনি জমিতে আধুনিক সেচ প্রযুক্তি গ্রহণ করেছেন। আগে পুরো জমিতে সেচ দিতে যেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগতো, এখন ড্রিপ সেচের ফলে মাত্র ১০ মিনিটেই সেচ কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে। এতে সেচের পানির অপচয় রোধের পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচও বহুলাংশে কমে গেছে। তিনি তার জমিতে থাই পেয়ারা চাষ করেছেন, যা রোপণের মাত্র ৮ মাস পর থেকেই ফলন দিতে শুরু করেছে। তার বাগানের প্রতিটি পেয়ারার ওজন ৩০০ থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত হচ্ছে এবং বাজারেও এর ভালো চাহিদা রয়েছে।

অন্যদিকে খোলসাখালী এলাকার কৃষাণী মোসাম্মদ আঞ্জুরা বেগম মালচিং পেপার পদ্ধতি ব্যবহার করে 'আলতাফবা' জাতের বেগুন চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। তিনি জানান, মালচিং পেপার ব্যবহারের ফলে জমিতে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়। এছাড়া জমিতে আগাছা না হওয়ায় নিড়ানি ও বাড়তি শ্রমিকের (কামলা) প্রয়োজন হয় না বললেই চলে। বর্তমানে তিনি প্রতিবার জমি থেকে আড়াই থেকে তিন মণ করে বেগুন তুলে নিজেই স্থানীয় হাটে গিয়ে ভালো দামে বিক্রি করছেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন উৎপাদনের সময় ও খরচ কমছে, অন্যদিকে পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা বাজারে ভালো দাম পাচ্ছেন। নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শের মাধ্যমে কৃষকদের এ ধরনের প্রযুক্তিতে আগ্রহী করে তোলা হচ্ছে।