দুর্বার করোলায় বাম্পার ফলন ও বাজিমাত

কৃষি

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাত্র ৬,৫০০ টাকা খরচ করে আধুনিক মালচিং প্রযুক্তি ও সুষম পরিচর্যার মাধ্যমে করোলা চাষ করে বাজিমাত করেছেন পশ্চিম নয়নপুর গ্রামের এক অভিজ্ঞ কৃষক। এআর মালিক সিডসের ‘দুর্বার’ জাতের উচ্চফলনশীল করোলা চাষ করে তিনি প্রথম ধাপেই প্রায় ৪০,০০০ টাকা আয় করেছেন এবং চলতি মৌসুমে সর্বমোট ৮০ হাজার টাকার বেশি বিক্রির আশা করছেন।

কৃষক জানান, তার ২০ থেকে ২২ শতাংশ জমিতে ৩০০টির মতো করোলার চারা রোপণ করা হয়েছে। একই জমিতে করোলার পূর্বে শসা চাষ করে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিক্রি করেছিলেন তিনি। পরে মাত্র ৬,৫০০ টাকা ব্যয়ে করোলা চাষ শুরু করেন। প্রথম হাটে প্রতি মণ করোলা ১,৬০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে বাজারে দাম বেড়ে ২,৮০০ টাকায় পৌঁছেছে। প্রতি সপ্তাহে দুইদিন (শনিবার ও বুধবার) হাটে ৩.৫ থেকে ৪ মণ করে করোলা বিক্রি করছেন তিনি।

চাষের ‘গোপন কৌশল’ বা সফলতার রহস্য সম্পর্কে তিনি জানান, জমিতে আগাছা প্রতিরোধ, মাটির আর্দ্রতা রক্ষা এবং গাছের শেকড় মজবুত রাখতে তিনি মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এছাড়া বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগ না করে বোলতা মাছি দমনে হলুদ স্টিকার ও ফাঁদ ব্যবহার করছেন।

দীর্ঘ ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি আরও জানান, অনেক সময় গাছে ‘ঝিমে রোগ’ বা মড়ক দেখা দেয়। এটি প্রতিরোধে চারা লাগানোর সময় অটোস্টিন নামক ছত্রাকনাশক ভিজিয়ে চারা রোপণ করেন এবং সারের সাথেও তা মিশিয়ে দেন। এতে গাছ দীর্ঘস্থায়ী সতেজ থাকে এবং প্রোডাকশন বৃদ্ধি পায়।

উচ্চফলন ও বাজারমূল্য ভালো পাওয়ায় আশপাশের কৃষকরাও এই জাতের করোলা ও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। নতুন ও আগ্রহী কৃষকদের যেকোনো পরামর্শের জন্য তিনি সরাসরি যোগাযোগ করতে বলছেন (মোবাইল: 01758099314)।