নদীভাঙনে সব হারিয়ে ৭০ বছর বয়সে রিকশার প্যাডেলে ম্যাট্রিক পাস বৃদ্ধের জীবনযুদ্ধ
জীবনযুদ্ধ
নিজস্ব প্রতিবেদক: একসময় ৪০ বিঘা জমি, গরু-বাছুর ও পরিবার জুড়ে ছিল অঢেল স্বচ্ছলতা। ১৯৭০ সালে অ্যাকাডেমি হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাসও করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের খাইয়ে-দাইয়ে সহযোগিতা করা সেই ধনী পরিবারের সন্তান আজ ৭০ বছর বয়সে পেটের তাগিদে রিকশার প্যাডেল ঘোরাচ্ছেন।
নদীভাঙনের করাল গ্রাসে ৪০ বিঘা জমিসহ বসতভিটা বিলীন হয়ে গেলে রাতারাতি নিঃস্ব হয়ে পড়ে পরিবারটি। জমিজমা হারিয়ে এক কাপড়েই ভিটেছাড়া হতে হয় তাদের। এরপর আর জীবনের চাকা সোজা ঘুরে দাঁড়ায়নি।
পরিবারে তিন ছেলে ও তিন মেয়ে থাকলেও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দুঃসময়ে কেউ পাশে নেই। মেয়েরা বিবাহিত এবং তিন ছেলে ঢাকায় কাজ করলেও বাবা-মায়ের ভরণপোষণের কোনো দায়িত্ব নেয় না। এর ওপর বৃদ্ধা স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত। তার যত্ন নেওয়া ও চিকিৎসা করানোর সম্বলটুকুও নেই।
দুপুর বা বিকেলে রিকশা নিয়ে বের হয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত শহরজুড়ে রিকশা চালিয়ে দিনশেষে তার আয় হয় মাত্র ৫০ থেকে ১৫০ টাকা। কোনো কোনো দিন তাও মেলে না। স্থানীয় বাজারের দোকানদাররা দয়া করে তার ভাঙাচোরা রিকশার চাকা ও টায়ার মেরামত করে দিয়েছেন। যাত্রীরা অনেক সময় ভালোবেসে অতিরিক্ত ১০-২০ টাকা দিলে তা দিয়েই কোনো মতে টিকে আছেন তিনি।
সন্তানেরা খোঁজ না নিলেও সত্তোরোর্ধ্ব এই বৃদ্ধ ভিক্ষা না করে ঘাম ঝরিয়ে সততার সাথে বেঁচে থাকাকেই বেছে নিয়েছেন। তবে বয়সের ভার ও অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎস খরচ সামলাতে গিয়ে এখন এক অনিশ্চিত জীবন পার করছেন তিনি।
