৬৫ বছর বয়সেও পেটের দায়ে ফেরি করে ফল বিক্রি করা

জীবনযুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বয়সের ভারে যখন মানুষ বিশ্রামের প্রহর গোনে, তখন পেটের তায়ে ও আত্মসম্মান রক্ষায় হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে যাওয়া এক সংগ্রামী মানুষের নাম—জীবনযুদ্ধে হার না মানা প্রবীণ এই ফল বিক্রেতা। ৬৫ বছর বয়সেও চোখে ঝাপসা দেখা এবং পায়ে তীব্র ব্যথার কারণে নিয়মিত ১৫-১৬টি ওষুধ খেয়ে প্রতিদিন সকালে ঠেলাগাড়িতে ফল নিয়ে শহরের রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন তিনি। কারো কাছে হাত না পেতে নিজের ঘামে অর্জিত উপার্জনে বেঁচে থাকার যে অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা যে কাউকে অনুপ্রাণিত করবে।

দীর্ঘ প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ফল ব্যবসার সাথে যুক্ত রয়েছেন এই মানুষটি। শুরুতে মাথায় ডালি নিয়ে কলা বিক্রি করলেও বর্তমানে সামান্য পুঁজি আর ভ্যানের ওপর কমলা, আঙুর, খেজুর ও কলা সাজিয়ে শহরের সদর হাসপাতাল, পলাশপাড়া ও মুন্সিপাড়ার অলিগলিতে ঘুরে বেড়ান। সকাল সাড়ে সাতটা-আটটা থেকে শুরু হওয়া তার এই কর্মব্যস্ততা রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত গড়ায়। সারাদিনের পরিশ্রমে গড়ে মাত্র ৩০০ টাকা আয় হয়, যা দিয়ে চাল-ডাল আর আলু কিনে পাঁচ-ছয় সদস্যের পরিবারের অন্নসংস্থান করতে হয়। নদী ভাঙনের শিকার হয়ে সর্বস্ব হারানোর বেদনা আর ঋণের বোঝাও তার চলার গতি থামাতে পারেনি।

স্থায়ী একটি দোকান বা বড় পুঁজির অভাব থাকলেও মনের জোরে তিনি প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলেছেন। আত্মসম্মান বজায় রেখে শ্রমের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের এই গল্প উত্তর জনপদের মানুষের মনে গভীর রেখাপাত করে।