নেপালে এখনো নিখোঁজ ৪ হাজারের বেশি মানুষ
সংযোগ ডেস্ক: ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে প্রতিবেশী দেশ নেপাল। প্রলয়ঙ্করী জলোচ্ছ্বাস ও হড়পা বানের ১০ দিন কেটে গেলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা প্রায় ১,৩০০ ছুঁইছুঁই এবং এখনও ৪,০০০-এরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গের ৩২ পর্যটক নিখোঁজ: এই বিপর্যয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। নেপালে ঘুরতে যাওয়া পশ্চিমবঙ্গের অন্তত ৩২ জন পর্যটকের এখনও পর্যন্ত কোনো খোঁজ মিলছে না। তাঁদের পরিবার দিশেহারা হয়ে দিন গুনছে।
বাঁকুড়ার নিখোঁজ যুবকের পরিবারে কান্নার রোল: নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন বাঁকুড়ার ইন্দপুরের মুদুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সী অশোক পাল। তিনি নেপালের রাসুয়া জেলার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। বানের তোড়ে রাসুয়ার জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বড় অংশ ভেসে যাওয়ায় পর থেকেই তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ ছেলেকে শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাঁর বাবা-মা বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে রক্তের নমুনা (DNA testing) দিয়েছেন।
নিশ্চিহ্ন একাধিক এলাকা, বাড়ছে আতঙ্ক: গত ২৬ আগস্টের সকালে আচমকা জলোচ্ছ্বাস ও কাদামাটির তোড়ে ভেসে যায় নেপালের অন্তত ৮টি জেলা। নুয়াকোট ও রাসুয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে। কোথাও কোথাও দোতলা বাড়ি পর্যন্ত কাদামাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে।
উদ্ধার কাজে জটিলতা: জলস্তর কিছুটা নামার পর মাটি চাপা পড়া বাড়িঘর ও ধ্বংসস্তূপ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করেছে। প্রশাসন থেকে উদ্ধারকাজ চালানো হলেও কাদা ও পাথরের স্তূপের কারণে উদ্ধারকারীরা পদে পদে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। দুর্গম এলাকা থেকে পচাগলা মৃতদেহ বা দেহাংশ সরাতে হেলিকপ্টার ব্যবহারে পর্যন্ত বেগ পেতে হচ্ছে।