মাটির কাজ থেকে দুধের ব্যবসায় কোটিপতি
ব্যবসা
নিজস্ব প্রতিবেদক: একসময় অভাবের তাড়নায় মাটির কাজ করে সংসার চালাতে হতো, বছরের অর্ধেকটা সময় কাটাতে হতো কিস্তি আর ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে। সামাজিক নানামুখী বাধা আর পরিবারের অনিচ্ছা সত্ত্বেও হাল ছাড়েননি তিনি। পাঁচ শতক জমি বিক্রি করে কেনা একটিমাত্র গাভী দিয়ে ২০০২ সালে শুরু করেছিলেন যাত্রা। আজ সেই দুধের ব্যবসার পথ ধরেই জীবনের সব স্বপ্ন পূরণ করেছেন গাইবান্ধার এক সফল খামারি ও ব্যবসায়ী।
ব্যবসায়িক সাফল্যের গল্প তুলে ধরে তিনি জানান, গ্রামের অন্য ব্যবসায়ীরা কাজ শেখাতে রাজি না হওয়ায় নিজ বুদ্ধিতেই ব্যবসায় নামেন। শুরুতে পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে করে দুধ বিক্রি করলেও এখন নিজের মডিফাইড ব্যাটারিচালিত বাহনে করে প্রতিদিন দুইটি ইউনিয়নের ১৫টি খামার ও বাড়ি থেকে নিজে গাভী দোয়ান। কুপতলা, খোলাহাটি ও দাড়িয়ারহাট থেকে দুধ সংগ্রহ করে গাইবান্ধা শহরের মাস্টারপাড়া, পুলিশ লাইন ও কালীবাড়ী এলাকায় গ্রাহকদের কাছে লিটারপ্রতি ৬০ টাকা দরে খাঁটি দুধ পৌঁছে দেন।
দুই যুগের দীর্ঘ এ লড়াইয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন কোটি টাকার সম্পদ। নির্মিত হয়েছে নিজ পাকা বাড়ি, বন্ধক নিয়েছেন ৮ থেকে ১০ বিঘা জমি। আর সবচেয়ে বড় সাফল্য—সন্তানদের সুশিক্ষিত করা। বড় ছেলে বর্তমানে মাস্টার্সে পড়ছেন, ছোট ছেলে কলেজে এবং মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী।
ব্যবসায়িক সততা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাত দিয়ে ধরে কিংবা মুখে টেস্ট করেই তিনি দুধের গুণগত মান ও ভেজাল বুঝতে পারেন। ক্রেতাদের কাছে ভেজালমুক্ত খাঁটি দুধ সরবরাহই তার প্রধান অঙ্গীকার। সন্তানদের পড়ালেখা শেষ ও কর্মসংস্থান হলে ভবিষ্যতে একটি আধুনিক ডেইরি শপ ও দুধের দোকান দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
