মাত্র ১০ টাকার রুম থেকে স্মৃতির ঠিকানা

ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চারটি দেওয়ালের মাঝে কেবল ইট-কাঠের ঘর নয়, কিছু প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে একেকটি ইতিহাস, জীবন্ত দলিল ও আবেগের জায়গা। গাইবান্ধার ঐতিহ্যবাহী ‘সোহাগ বোর্ডিং’ তেমনই এক ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠান, যার প্রতিটি কোণায় জড়িয়ে রয়েছে বহু বরেণ্য ব্যক্তিত্বের স্মৃতি, সাধারণ মানুষের সংগ্রাম আর বিশ্বাসের এক অনন্য মেলবন্ধন।

প্রায় চার দশক আগে ভবনটি মার্কেট হিসেবে তৈরির পর উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় তা আবাসিক বোর্ডিংয়ে রূপান্তর করা হয়। শুরুর দিকে রুমের ভাড়া মাত্র ১০ টাকা থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় তা বর্তমানে ২০০ টাকায় ঠেকেছে। তবে ভাড়ার এই স্বল্পতা নয়, বরং এর মূল আকর্ষণ হলো এর সাথে জড়িত আবেগ ও ইতিহাস। একসময় দেশের প্রখ্যাত নাট্যকার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বরেণ্য শিল্পীরা গাইবান্ধায় এলে এই বোর্ডিংকেই তাদের নিরাপদ আশ্রয় ও আড্ডার কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিতেন। হুমায়ুন ফরীদি থেকে শুরু করে ড. সেলিম আল দীনের মতো গুণী মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়েছে এর প্রাঙ্গণ।

শুধু থাকার জায়গা নয়, এটি মানুষের বিশ্বাসের প্রতীক। দূরদূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ এখানে নিরাপদে রেখে যান। এছাড়া ১৯৮৮ সালের বন্যাসহ বিভিন্ন সংকটে অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে কখনো কার্পণ্য করেনি এই প্রতিষ্ঠান। আধুনিকতার ভিড়ে শহরের রূপ বদলালেও, গাইবান্ধার মানুষের সুখ-দুঃখ আর সংস্কৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা ‘সোহাগ বোর্ডিং’ আজও তার ঐতিহ্য ও মায়া টিকিয়ে রেখেছে।