৯০০ টাকার পুঁজি থেকে লাখপতি: রাজনের মুরগি মাখার গল্প

লাখপতি

৯০০ টাকার পুঁজি থেকে লাখপতি: রাজনের মুরগি মাখার গল্প

রাজন: আমার এখানে ঘুগনি, ছোলা বুট আর মুরগির গিলা-কলিজা, গলা, মাথা, ডিম—সব আছে। যে যেভাবে খেতে চায়, তাকে সেভাবেই দেওয়া হয়। এক পিস মুরগির মাংসসহ মুড়ি মাখার দাম মাত্র ৫০ টাকা। ডিম দিয়ে নিলে ৩০ টাকা। অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে আমার এই মাখা খেতে আসে।

রাজন: আজকে আমাকে হাসিখুশি দেখছেন, কিন্তু আমার অতীত ছিল খুব কষ্টের। অভাবের সংসারে অন্যের বাড়ি থেকে ভাতের মাড় এনে খেয়েছি। হোটেলে কাজ করতাম, রাতে ঘুমানোর জায়গা ছিল না বলে দোকানের বারান্দায় বা ময়লার বস্তার ওপর ঘুমাতাম। এই ব্যবসার মূল চাবিকাঠি ছিল মাত্র ৯০০ টাকা। আমার মা সমিতি থেকে ৩০০০ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন, সেখান থেকেই এই ব্যবসার শুরু।

রাজন: এই ৯০০ টাকার পুঁজি থেকেই আজকে আমি সাড়ে সাত শতক জায়গা কিনেছি। ছেলে আর মেয়ের জন্য সমানভাবে ভাগ করে দিয়েছি। আমার হাতে কোনো জাদু নেই, জাদু আছে আমার স্ত্রীর হাতে। তিনিই সকাল থেকে বুট ধোয়া, মশলা বাটা আর মাংস প্রসেসিং করে দেন। বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে এই প্রস্তুতি, আর সন্ধ্যা ৭টার পর আমি দোকানে বসি।

কাস্টমার: আমি আগে এটা খেতাম না, কিন্তু বন্ধুদের কাছে শুনে খেতে আসি। রাজনের হাতের মাখা সত্যিই অন্যরকম। গাইবান্ধায় এরকম মাখা আর কোথাও পাওয়া যায় না। তার ব্যবহারে আমরা মুগ্ধ, তিনি আমাদের কাছে ঝালমুড়িওয়ালার চেয়ে একজন ভালোবাসার মানুষ হিসেবে বেশি পরিচিত।

রাজন: আমার একটা স্বপ্ন ছিল আমার বাকপ্রতিবন্ধী ছেলেকে সুস্থ করা। তাকে ঢাকা পিজি হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। ডাক্তাররা অপারেশনের জন্য ৮-১০ লক্ষ টাকা চেয়েছিল। কিন্তু আমার সামর্থ্যের বাইরে হওয়ায় আমি তাকে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছি। টাকার অভাবে তার কানে শোনার মেশিনটুকুও কিনে দিতে পারিনি। এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ।

রাজন: মানুষ আমাকে ভালোবাসে, সম্মান দেয়—এটাই আমার বড় পাওয়া। যতদিন পারি এই ভালোবাসার টানেই ঝালমুড়ি বিক্রি করে যাব।

ইউটিউব ভিডিও লিঙ্ক: https://youtu.be/zxcGaNBzgUs