সন্তান ও সমাজহারা প্রবীণদের শেষ আশ্রয় মেহরুন্নেসা বৃদ্ধাশ্রম
সেবামূলক প্রতিষ্ঠান
নিজস্ব প্রতিবেদক: পরিবারের পরম যত্ন ও ভালোবাসার ছায়া থেকে বঞ্চিত হয়ে যখন প্রবীণ বয়সে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েন, তখন তাদের শেষ ভরসাস্থল হয়ে দাঁড়ায় বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ছোট সোহাগী গ্রামে গড়ে ওঠা ‘মেহরুন্নেসা বৃদ্ধাশ্রম’ তেমনি এক অবহেলিত ও অসহায় মা-বাবার নিরাপদ ঠিকানা। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানাবিধ আর্থিক সংকট ও প্রতিকূলতার মাঝেও পরম মমতায় প্রবীণদের সেবা দিয়ে আসলেও বর্তমানে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উদ্যোক্তারা জানান, ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এই বৃদ্ধাশ্রমে বর্তমানে প্রায় ৩৯ জন অসহায় ও প্রবীণ মা-বাবা বসবাস করছেন। তাদের তিন বেলা খাবার, চিকিৎসাসেবা, পোশাক এবং রান্নার লোকসহ কর্মচারীদের বেতন এবং বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গিয়ে প্রতি মাসেই হিমশিম খেতে হয়। একসময়ে ঘরে একমুঠো চাল বা কাঁচাবাজার না থাকায় উদ্যোক্তার নিজ বাড়ি থেকে চাল এনে খিচুড়ি রান্না করে খাওয়ানোর মতো বেদনাদায়ক পরিস্থিতিও পার করতে হয়েছে। সমাজ ও আপনজনদের দ্বারা উপেক্ষিত এসব প্রবীণ মানুষের মুখে একটু হাসি ফোটাতে এবং তাদের বাকি জীবনটা শান্তিতে কাটাতে সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তবান মানুষদের নিয়মিত সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।
প্রযুক্তির যুগে কিংবা আধুনিকতার ব্যস্ততায় যখন মানবিক মূল্যবোধগুলো প্রশ্নবিদ্ধ, তখন মেহরুন্নেসা বৃদ্ধাশ্রমের মতো মানবিক উদ্যোগগুলো টিকিয়ে রাখতে সরকারি-বেসরকারি ও সামাজিকভাবে এগিয়ে আসা সময়ের দাবি।