কটূক্তি পেরিয়ে মাশরুম আপা

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানুষের উপহাস ও কটূক্তিকে পাত্তা না দিয়ে কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতা দিয়ে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন এক সাহসী নারী। একসময় যাকে নিয়ে 'ব্যাঙের ছাতা বিক্রেতা' বলে ব্যঙ্গ করা হতো, আজ তিনি এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন ‘মাশরুম আপা’ হিসেবে। ছাদবাগান থেকে মাত্র ৫ হাজার টাকায় শুরু করা ব্যবসায় সাফল্যের পর এবার ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ৫ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

এই সফল উদ্যোক্তার জীবনের গল্পটি মসৃণ ছিল না। একসময় পোশাক কারখানায় চাকরি, দাম্পত্য জীবনে নানা টানাপোড়েন এবং ৪-৫ বছর একা থেকে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করতে হয়েছে তাকে। নিজের শেষ সম্বল স্বর্ণের চেইন বিক্রি করে পার্লার কাজ শেখেন তিনি। পরবর্তীতে পার্লারের আয় থেকে ৬ শতক জমি কিনে স্বাবলম্বী হলেও করোনার সময় পার্লার ব্যবসায় মন্থর গতি এলে বিকল্প হিসেবে মাশরুম চাষের পথ বেছে নেন।

সাভার মাশরুম ইনস্টিটিউট থেকে ১০ দিনের সরকারি প্রশিক্ষণ নিয়ে আমন ধানের খড়, চুন এবং স্টেরিলাইজেশন প্রসেস প্রয়োগ করে ওয়েস্টার জাতের (PO2) মাশরুম চাষ শুরু করেন তিনি। একটি প্যাকেটে ৫০ টাকা উৎপাদন খরচে মেলে ৫০০ থেকে ৯০০ গ্রাম মাশরুম, যা বাজারে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। কেবল নিজে স্বাবলম্বী হননি, গ্রামের আরও ৩০ জন চাষিকে রংপুর হর্টিকালচারে ট্রেনিং দেওয়ানোর ব্যবস্থা করে পুরো গ্রামের অর্থনৈতিক দৃশ্যপটই বদলে দিয়েছেন।

ভবিষ্যতে নিজের এলাকায় একটি টিস্যু কালচার ও মাদার তৈরির বৈজ্ঞানিক ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা এবং পুরো গ্রামকে 'মাশরুম পল্লী' হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তার। চাষিদের উৎপাদিত মাশরুম সংগ্রহ করে নিজ দায়িত্বে দেশব্যাপী বাজারজাত করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন এই উদ্যোক্তা।