২ টাকার লুঙ্গি ও ৫ টাকার ব্লাউজ সেলাই থেকে লাখ টাকার জমির মালিক

জীবনযুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইচ্ছা আর অদম্য মানসিকতা থাকলে একদম শূন্য থেকেও সফলতার চূড়ায় পৌঁছানো সম্ভব—তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সংগ্রামী এক নারী দর্জি উদ্যোক্তা। লুকোচুরি করে শৈশবে সেলাইয়ের কাজ শেখা এই নারী আজ নিজের জমানো টাকায় কোটি টাকার মতো সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।

গল্পের শুরু তিনি যখন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে জেঠার দোকানে সুতা কাটার মাধ্যমে সেলাই কাজের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে কয়লা দিয়ে কাপড়ে দাগ কেটে ও ১০ টাকার ছোট কেঁচি দিয়ে পোশাক কেটে খেঁতা সেলাইয়ের মতো করে পোশাক বানানো শুরু করেন। তার আগ্রহ দেখে এক চাচা তাকে একটি সেলাই মেশিন উপহার দেন।

বিয়ের পর স্বামী কাপড়ের ব্যবসা শুরু করলে তিনিও দর্জি কাজ শুরু করেন। তখন মজুরি ছিল অবিশ্বাস্য—মাত্র দুই টাকায় লুঙ্গি এবং পাঁচ টাকায় ব্লাউজ সেলাই করে দিতেন। হাঁস-মুরগি বিক্রি আর সেলাইয়ের এই পাঁচ-দশ টাকার সঞ্চয় জমিয়ে তৎকালীন সময়ে মাত্র ১২ হাজার টাকায় প্রথম জমি বোনেন তিনি (দলিলসহ ১৪,০০০ টাকা)। সেই জমির দাম এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে কয়েক লাখ টাকায়। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে নিজের উপার্জন দিয়ে নিজের একটি পাকা ভিটা তৈরি করেন।

দীর্ঘদিন স্বামী অসুস্থ থাকার পর মারা গেলে কিছুটা দুশ্চিন্তায় পড়লেও ভেঙে পড়েননি তিনি। ছেলেদের সঙ্গে নিয়ে আবারও নতুন করে গড়ে তোলেন নিজেদের সেই পোশাক বানানোর প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে তার দোকানে তিনি নিজে মেজারমেন্ট ও কাটিং পরিচালনা করেন এবং সেলাইয়ের কাজে সাহায্য করছেন তিনজন সহকারী কারিগর।

ছোট বাচ্চাদের পোশাক, মেক্সি, পায়জামা, থ্রি-পিস ও বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক নিখুঁতভাবে তৈরি করায় পুরো এলাকা জুড়ে রয়েছে তার দারুণ সুনাম। জীবনসংগ্রামের নানা ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন—ধৈর্য ও মেধা থাকলে যেকোনো নারীই নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারেন।