নদীভাঙন ও চড়া সুদের ঋণে দিশেহারা কৃষক
কৃষি
নিজস্ব প্রতিবেদক: চরাঞ্চলে বন্যা কম হওয়া এবং সময়মতো পলি মাটি না আসায় জমিতে পোকার আক্রমণ বৃদ্ধি পেয়ে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাসকালাই (কালাই) চাষিরা। তার ওপর সরকারি কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকির অভাব, ক্রমাগত নদীভাঙন এবং চড়া সুদের ঋণের বোঝা চরাঞ্চলের সাধারণ কৃষকদের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে।
গাইবান্ধা চরাঞ্চলের এক ভুক্তভোগী কৃষক জানান, তার এক একর (৯৯ শতক) জমিতে মাসকালাই চাষের পর থেকেই পোকার উপদ্রব শুরু হয়েছে। অথচ স্থানীয় ব্লক কৃষি কর্মকর্তা বা মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কেউই জমি পরিদর্শন বা কোনো পরামর্শ দিয়ে পাশে দাঁড়াননি। নিজে বাজার থেকে ওষুধ এনে স্প্রে করলেও খেত রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সামান্য খরচে বিজ বুনে কালাই বিক্রি করে যেখানে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পাওয়ার আশা ছিল, পোকার আক্রমণে এখন পুরো বিনিয়োগই ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম।
কৃষকদের মতে, চরাঞ্চলের মূল অভিশাপ নদীভাঙন। গত বছর নদীভাঙনে তাদের ২ থেকে ৩ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতি বিঘা জমিতে ভুট্টা বা অন্য ফসল ফলাতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হলেও নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সব হারিয়ে নিঃস্ব হতে হচ্ছে। বলাসী ঘাটের মতো যদি স্থায়ী তীর রক্ষা বাঁধ বা জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করা হতো, তবে চরাঞ্চলের হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি বেঁচে যেত।
দুর্যোগ ও ক্ষতির মুখোমুখি হয়ে কৃষকরা পড়তে বাধ্য হচ্ছেন চড়া সুদের ঋণের জালে। স্থানীয় মহাজন বা এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিলে ১ লাখ টাকায় ৬ মাসের ব্যবধানে প্রায় ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত সুদ দিতে হয়।
নদীভাঙনে এক নিমেষেই সব সহায়-সম্পদ হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে চরাঞ্চলের মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করার সুযোগ থাকে না বললেই চলে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা চরাঞ্চলের সুরক্ষায় বাঁধ নির্মাণ এবং সময়মতো সরকারি কৃষি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
