সামাজিক বাধা পেরিয়ে টেবিল টেনিসে সাফল্যের উড়ান
খেলাধুলা
নিজস্ব প্রতিবেদক: "মেয়ে হয়ে কেন খেলাধুলা, পড়াশোনা করাই তো যথেষ্ট"—চারপাশের এমন হাজারো লোকলজ্জা আর সামাজিক কটূক্তিকে উপেক্ষা করে টেবিল টেনিসের বোর্ডে দেশের মুখ উজ্জ্বল করছেন এক উদীয়মান নারী অ্যাথলেট। সামাজিক সব বাধা-বিপত্তিকে পেছনে ফেলে দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একের পর এক পদক ছিনিয়ে আনছেন তিনি।
টেবিল টেনিসে তার সাফল্যের ঝুলি বেশ সমৃদ্ধ। ভারতে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান জুনিয়র অ্যান্ড ক্যাডেট চ্যাম্পিয়নশিপের মিক্সড ডাবলস ও টিম ইভেন্টে তিনি জোড়া ব্রোঞ্জ জয় করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ গেমসে টিমসে ব্রোঞ্জ, জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ, এবং যুব গেমসে একাই তিনটি ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছেন। চীনে ৪৮ দিনের বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প সম্পন্ন করা এই খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক মানের বড় তারকা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
তার পরিবারে টেবিল টেনিসের চর্চা আগে থেকেই ছিল। বাবার অর্জিত ট্রফি ও সম্মান দেখে এবং নিজের ফুপিদের (যার মধ্যে সুমি জাতীয় দলে খেলেছেন) টেবিল টেনিস খেলা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ছোটবেলা থেকেই ব্যাট হাতে তুলে নেন তিনি। মূলত বাবার হাত ধরেই তার টেবিল টেনিসে হাতেখড়ি ও নিয়মিত হওয়া।
নারী খেলোয়াড় হিসেবে নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, শুরুতে পরিবারকে প্রতিবেশীদের নানামুখী কটু কথা শুনতে হতো। তবে নেতিবাচক কথাবার্তাকে কানে না তুলে নিজের খেলার প্রতি মনোযোগ দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ফেডারেশনের অধীনে জাতীয় ক্যাম্পে থাই কোচের অধীনে সকালে ও বিকেলে কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তার পরবর্তী প্রধান লক্ষ্য বাহরাইনে অনুষ্ঠিতব্য আন্ডার-১৭ এশিয়ান ইউথ গেমসে দেশের জন্য পদক ছিনিয়ে আনা।
টেবিল টেনিসকে আরও জনপ্রিয় করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ক্রিকেট বা ফুটবলের মতো টেবিল টেনিসকেও প্রচার ও মূল্যায়ন করা উচিত। তৃণমূল ও স্কুল-কলেজ পর্যায়ে প্র্যাকটিসের জন্য বোর্ড ও কোচের সুযোগ তৈরি করা হলে ক্রীড়াঙ্গনে আরও নতুন নতুন টেবিল টেনিস তারকা উঠে আসবে।
