প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

সংযোগ ডেস্ক

বিদ্যুৎ খাতে গ্রাহক শোষণ ও হয়রানির অভিযোগ তুলে প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি পাঠিয়েছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি। 

এ দাবিতে শনিবার (৭ মার্চ) বেলা ১২টায় নগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর প্রেরিত খোলা চিঠি পাঠ করেন রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ। এ সময় কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নীপেন্দ্র নাথ রায়, আব্দুল জব্বার, এবিএম মসিউর রহমান, বিজয় প্রসাদ তপু, আব্দুল হামিদ বাবু, আমিন মোর্শেদ, সুবাস রায়, সবুজ রায়, ফিরোজ চৌধুরী, মাহফুজার রহমান, আশিক চন্ডালসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

খোলা চিঠিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগে বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ গ্রাহকদের আপত্তি ও অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, যা জনমতের প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শনের শামিল।

নাগরিক কমিটির নেতারা অভিযোগ করেন, প্রিপেইড মিটার পদ্ধতিতে গ্রাহকদের আগাম টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয় এবং ব্যালেন্স শেষ হলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা বিদ্যমান বিদ্যুৎ আইনের নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একই সঙ্গে মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট ও বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, প্রিপেইড মিটার স্থাপনের বিষয়ে গ্রাহকদের মতামত গ্রহণ বা গণশুনানির আয়োজন না করেই একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে সাধারণ গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং বিদ্যুৎ সেবাকে একটি বাণিজ্যিক ব্যবস্থায় পরিণত করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

এছাড়া খোলা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রিপেইড মিটার নিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে একটি রিট পিটিশন বিচারাধীন রয়েছে। সেই রিট নিষ্পত্তির আগেই দ্রুতগতিতে মিটার স্থাপন কার্যক্রম চালানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অবিলম্বে বিতর্কিত প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম স্থগিত করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা এবং গ্রাহকদের মতামত গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। অন্যথায় প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে লাগাতার আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।