ঘোড়ায় চড়ে লাশ গোসল করাতে ছোটেন
মনবতা
নিজস্ব প্রতিবেদক :
মানুষের শখ কত বিচিত্র হতে পারে, তার এক অনন্য ও মানবিক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন গাইবান্ধার এক বৃদ্ধ। ছোটবেলার ঘোড়ায় চড়ার স্বপ্নকে তিনি রূপান্তর করেছেন পরোপকারে। বর্তমানে তিনি দূর-দূরান্তে ঘোড়ায় চড়ে ছুটে যান মৃত মানুষকে শেষ গোসল করাতে। ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই অসাধারণ পরোপকারী মানুষের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
স্বপ্ন ও সংগ্রামের জীবন পাকিস্তান আমল থেকেই ঘোড়া কেনার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল এই বৃদ্ধের। তখন তিনি তার বাবার গরুর গাড়ি চালাতেন এবং সারাদিনে কামাই করতেন মাত্র সাড়ে তিন টাকা। ইটের ভাটায় কাজ করে কঠোর পরিশ্রমে জমানো টাকা দিয়ে তিনি তার আজন্ম লালিত স্বপ্ন পূরণ করেন—একটি ঘোড়া কেনেন। তিনি বলেন, “আল্লাহর কাছে চেয়েছিলাম, ঘোড়া না কিনে যেন আমার মৃত্যু না হয়।”
ঘোড়ায় চড়ে মানবতার সেবা বয়সের ভারে এখন আর আগের মতো দীর্ঘ পথ হাঁটতে পারেন না তিনি। কিন্তু কেউ মারা গেলে তাকে গোসল করানোর ডাক এলে তিনি স্থির থাকতে পারেন না। সাইকেল চালানোর ক্ষমতা নেই, ভাড়ার টাকাও সবসময় থাকে না। তাই নিজের পোষা ঘোড়াটির পিঠে চড়েই তিনি ধানঘড়া, তুলসীঘাট বা দূরবর্তী গ্রামগুলোতে ছুটে যান। বিনা পারিশ্রমিকে তিনি এই সেবা প্রদান করেন এবং মানুষের কাছ থেকে কোনো অর্থ গ্রহণ করেন না।
পারিবারিক বাধা ও সংকল্প ঘোড়া কেনা নিয়ে শুরুতে স্ত্রীর সাথে তাকে অনেকটা ‘যুদ্ধ’ করতে হয়েছে। তার স্ত্রী ঘোড়া রাখার বিরোধী থাকলেও তিনি তাকে বুঝিয়ে বলেন যে, এটি কেবল শখ নয় বরং সওয়াবের কাজ। ৫ ওয়াক্ত নামাজ ও কোরআন পাঠের পাশাপাশি এই পরোপকারকেই তিনি জীবনের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ঘোড়ার খাবারের খরচ জোগাতে তিনি নিজে কষ্ট করলেও এই কাজ থেকে পিছিয়ে আসেননি।
স্থানীয়দের প্রশংসা এলাকার মানুষ তার এই মহৎ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাঞ্জাবি-টুপি পরে যখন তিনি ঘোড়ায় চড়ে যান, মানুষ কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি হাসিমুখে জানান—তিনি কোনো মৃত ব্যক্তিকে শেষ বিদায় জানাতে যাচ্ছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, আল্লাহ তাকে এই ঘোড়াটি দিয়েছেন মানুষের সেবা করার শক্তি হিসেবে।
নিজের জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এভাবেই মানুষের উপকার করে যেতে চান এই সাদা মনের মানুষটি। তার এই নিঃস্বার্থ পরোপকার বর্তমান সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।



