বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অলৌকিক উদ্ধার অভিযান

উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক: মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখে অবশেষে ১৯ বছর পর নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছেন গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তালুকবাজিদ গ্রামের সন্তান মোহাম্মদ মইনুল হক। আফ্রিকার দেশ সুদানে গৃহযুদ্ধের কবলে পড়ে বন্দিদশা, চরম অনাহার এবং মৃত্যুর হাত থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কারণে অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে দেশে ফিরেছেন তিনি।

২০০৪ সালে জীবিকার তাগিদে সুদানে পাড়ি জমিয়েছিলেন মইনুল। দীর্ঘ ১৯ বছরের কষ্টে সেখানে বাড়ি-গাড়িসহ ভালো অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল সুদানে সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী বাহিনীর মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে মইনুলের জীবন ও উপার্জিত সম্পদ থমকে যায়। যুদ্ধক্ষেত্রে বিদ্যুৎ, নেটওয়ার্ক ও পানি বন্ধ হয়ে গেলে এক সপ্তাহের জমানো খাবার একটু একটু করে খেয়ে তিন মাস বেঁচে থাকেন তিনি।

পরবর্তীতে সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে বিদ্রোহী বাহিনীর হাতে স্নাইপার ও শত্রু মনে করে আটক হন। টানা ৮ মাস ভূগর্ভস্থ বা সংকুচিত বন্দিশালায় নির্মম নির্যাতন ও অনাহারে কাটান তিনি। হাড্ডিসার দেহে পরিণত হওয়ার পর এক তুমুল আক্রমণের সময় জেলখানা উন্মুক্ত হলে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন এবং ১৭ দিন জঙ্গল ও পায়ে হেঁটে সাউথ সুদান সীমান্তে গিয়ে পৌঁছান।

সেখানে দায়িত্বরত সাউথ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীদের সাথে তার যোগাযোগ হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা মেজর মিজান এবং ক্যাপ্টেন আশফাক তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেন। কোনো কাগজপত্র বা মোবাইল না থাকায় ছবি তুলে অনলাইনে ও গাইবান্ধায় স্বজনদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় যাবতীয় প্রশাসনিক ও ভ্রমণের কাগজপত্র প্রস্তুত করে বিমান টিকিটের ব্যবস্থা করে তাকে নিরাপদে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। দীর্ঘ সময় পর নিজ গৃহে ফিরে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন মইনুল। তিনি জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই মহান মানবিক সহায়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন