সততা ও ২৪ বছরের মেকানিক অভিজ্ঞতায় জয়ী রায়হান

জীবনযুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রবাদ আছে, 'কঠোর পরিশ্রম আর সততাই সাফল্যের চাবিকাঠি।' এই প্রবাদকে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন গাইবান্ধার মেকানিক রায়হান। ১৯৯৯ সালে মাত্র ৫ টাকা দৈনিক বেতনে ওস্তাদের গ্যারেজে কাজ শুরু করা সেই কিশোর আজ নিজের গ্যারেজের মালিক এবং এলাকার জনপ্রিয় একজন মোটরসাইকেল মেকানিক।

সুদীর্ঘ ২৪-২৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রায়হান গাইবান্ধা শহরে গত সাড়ে আট বছর ধরে পরিচালনা করছেন 'রিমঝিম অটো রিপেয়ারিং হাউস'। মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন, ওয়ারিং কিংবা জটিল যেকোনো সমস্যা—অন্য গ্যারেজে যে কাজ সমাধান হয় না, সেসব কাজ তিনি নিপুণভাবে সমাধান করেন বলে বাইকারদের কাছে তার আলাদা সুনাম রয়েছে।

নিজের শুরুর দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে রায়হান জানান, কাজের শুরুতে চরম শারীরিক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। গরম সাইলেন্সার পাইপে হাত পুড়ে যাওয়া কিংবা চাকার চেইনে আঙুল কেটে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনায় পড়তে হয়েছে। ওস্তাদের দোকানে টানা ১৫ বছর কাজ শেখার পর আজ তিনি নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের মালিক।

ব্যবসার পাশাপাশি সততার ক্ষেত্রেও তিনি অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি জানান, একবার এক কাস্টমার ভুল করে তার গ্যারেজের টেবিলে সাড়ে তিন লাখ টাকাসহ একটি ব্যাগ ফেলে রেখে যান। পরে রাতে জানতে পেরে সেই টাকা অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন এবং পরদিন গ্রাহকের হাতে ফিরিয়ে দেন। সততা ও হাসিমুখে কাস্টমার সার্ভিস দেওয়াই তার ব্যবসার মূল শক্তি।

বর্তমানে অর্জিত আয় দিয়ে মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানের পড়াশোনাসহ সংসার সুন্দরভাবে পরিচালনা করছেন তিনি। নিজস্ব কোনো বড় বাড়ি না থাকলেও চাপাদাহ বিএল স্কুল মার্কেটে একটি দোকান কিনেছেন। যতদিন শারীরিক সামর্থ্য থাকবে, মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা নিয়ে এই মেকানিক পেশাতেই যুক্ত থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার প্রকাশ করেছেন তিনি।