দ্বিতীয় যমুনা সেতু: উত্তরবঙ্গ-সিলেটের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
গাইবান্ধা, রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, বগুড়া, জয়পুরহাট ও নওগাঁর মতো জেলাগুলো থেকে উৎপাদিত ধান, চাল, আলু, ভুট্টা, গম, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, টমেটো ও বিভিন্ন শীতকালীন সবজি সহজেই সিলেটের বাজারে পৌঁছানো সম্ভব হবে। সিলেট চা, লেবু, আনারস ও সুপারি উৎপাদনে সমৃদ্ধ হলেও খাদ্যশস্য ও শীতকালীন সবজি উৎপাদনে ঘাটতি থাকায় এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অন্য অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। দ্বিতীয় যমুনা সেতু এই ঘাটতি পূরণে উত্তরবঙ্গকে একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহ কেন্দ্রে পরিণত করতে পারে।
গোলজার আহমেদ :
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মানচিত্রে যোগাযোগ অবকাঠামো বরাবরই একটি নির্ধারক ভূমিকা পালন করে এসেছে। কোনও অঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশ কতটা দ্রুত ও টেকসই হবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করে সেই অঞ্চল অন্যান্য অঞ্চলের সাথে কতটা সহজে ও কম খরচে সংযুক্ত থাকতে পারে তার ওপর।
বর্তমানে উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ জেলার মানুষকে সিলেট অঞ্চলে যেতে বর্তমান যমুনা সেতু হয়ে দীর্ঘ ও ঘুরপথে যাতায়াত করতে হয়, যার ফলে সময়, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় উভয় অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গাইবান্ধার বালাসী এবং জামালপুরের বাহাদুরাবাদ অংশে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়িত হলে এই প্রতিবন্ধকতা দূর হবে এবং উত্তরবঙ্গ ও সিলেট অঞ্চলের মধ্যে একটি সম্পূর্ণ নতুন অর্থনৈতিক করিডোর তৈরি হবে।
মূল ভূমিকায় যাওয়ার আগে বিষয়টি বলে নেই, প্রশ্ন উঠতে পারে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় যমুনা সেতুর সাথে সিলেটের উন্নয়নের সম্পর্ক কী? সেটি অবশ্যই আছে বলেই প্রাসঙ্গিকতায় এই লেখা- শাকসবজি, ধান-চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যই দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে পূর্বাঞ্চলে, বিশেষ করে সিলেটে এসব পণ্য যুগের পর যুগ সরবরাহ করে আসছে। যার কারণে এখানে বিষয়টি অনেকটা প্রাসঙ্গিক।
সিলেট বিভাগ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চা-বাগান, প্রবাসী রেমিট্যান্স এবং গ্যাস-তেল সম্পদের জন্য দেশে-বিদেশে সুপরিচিত হলেও কৃষি উৎপাদনের দিক থেকে এই অঞ্চল তুলনামূলকভাবে সীমিত। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলো- দেশের অন্যতম প্রধান কৃষি উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এই দুই অঞ্চলের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের অভাবে ব্যাবসায়িক লেনদেন ও পণ্য পরিবহন দীর্ঘদিন ধরে বাধাগ্রস্ত হয়ে আসছে।
বর্তমান পথে যমুনা সেতু ঘুরে যেতে দূরত্ব অনেক বেড়ে যায়, যানজট বৃদ্ধি পায় এবং পরিবহন ব্যয় অনেক বেশি হয়। এর ফলে উত্তরবঙ্গের উৎপাদিত পণ্য সিলেটের বাজারে পৌঁছাতে যেমন সময় লাগে, তেমনি সিলেট অঞ্চলের পণ্যও উত্তরবঙ্গে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। এই পরিস্থিতিতে দুই অঞ্চলের মধ্যে ব্যাবসায়িক সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিসরেই থেকে গেছে।
দ্বিতীয় যমুনা সেতু : নতুন সম্ভাবনার দ্বার
বালাসী-বাহাদুরাবাদ দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মিত হলে বিভিন্ন সম্ভাব্য রুট অনুযায়ী বর্তমান পথের তুলনায় প্রায় ১৪০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্ব কমতে পারে এবং যাত্রাসময় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। এই সময় ও দূরত্ব সাশ্রয় শুধু যাত্রীদের জন্য নয়, বরং ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের জন্যও একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন বয়ে আনতে পারে। পরিবহন ব্যয় কমে যাওয়ার ফলে পণ্যের উৎপাদন মূল্যের তুলনায় বাজারমূল্য অনেকটাই নাগালের মধ্যে থাকবে, যা উভয় অঞ্চলের ভোক্তা ও উৎপাদক উভয়ের জন্যই লাভজনক হবে।
কৃষিপণ্য বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত
এই সেতুর সবচেয়ে বড় সুফল ভোগ করবে উত্তরবঙ্গের কৃষি খাত এবং সিলেটের ভোক্তা বাজার। গাইবান্ধা, রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, বগুড়া, জয়পুরহাট ও নওগাঁর মতো জেলাগুলো থেকে উৎপাদিত ধান, চাল, আলু, ভুট্টা, গম, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, টমেটো ও বিভিন্ন শীতকালীন সবজি সহজেই সিলেটের বাজারে পৌঁছানো সম্ভব হবে। সিলেট চা, লেবু, আনারস ও সুপারি উৎপাদনে সমৃদ্ধ হলেও খাদ্যশস্য ও শীতকালীন সবজি উৎপাদনে ঘাটতি থাকায় এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অন্য অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। দ্বিতীয় যমুনা সেতু এই ঘাটতি পূরণে উত্তরবঙ্গকে একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহ কেন্দ্রে পরিণত করতে পারে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্য যেমন দুধ, মাছ, তাজা শাকসবজি ও ফলমূল পরিবহনে সময় একটি নির্ধারক উপাদান। বর্তমান দীর্ঘপথে এসব পণ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পথেই নষ্ট হয়ে যায় বা মানের অবনতি ঘটে। নতুন সেতু চালু হলে পরিবহন সময় কমে যাওয়ায় এই অপচয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, যা কৃষকের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করবে এবং সিলেটের ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে তাজা পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
সিলেটের ব্যাবসায়িক পরিসর সম্প্রসারণের সুযোগ
সিলেট শুধু একটি ভোক্তা বাজার নয়, বরং এটি একটি সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক কেন্দ্রও বটে। এই অঞ্চলে রয়েছে বিপুলসংখ্যক হোটেল-রেস্তোরাঁ, সুপারশপ, পর্যটন প্রতিষ্ঠান এবং একটি ক্রমবর্ধমান নগর জনসংখ্যা, যাদের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবাসী আয়নির্ভর অর্থনীতির কারণে সিলেটের ক্রয়ক্ষমতাও তুলনামূলকভাবে বেশি, যা এই অঞ্চলকে একটি লাভজনক বাজার হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করে। উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ীরা যদি এই বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারেন, তাহলে তারা কেবল কাঁচা কৃষিপণ্য নয়, বরং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, প্যাকেটজাত পণ্য ও বিভিন্ন শিল্পপণ্যও সরবরাহ করতে পারবেন।
একইভাবে সিলেটের ব্যবসায়ীদের জন্যও এই সংযোগ নতুন সুযোগ তৈরি করবে। চা, সুপারি, লেবু ও অন্যান্য স্থানীয় পণ্য উত্তরবঙ্গ ও এমনকি দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাজারে আরও দ্রুত ও কম খরচে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এছাড়া সিলেটের পর্যটন শিল্প, যা ইতোমধ্যে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, উত্তরবঙ্গের সাথে সহজ যোগাযোগের ফলে আরও বেশি পর্যটক আকৃষ্ট করতে পারবে, যা স্থানীয় হোটেল, পরিবহন ও সেবা খাতে নতুন ব্যাবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি করবে।
সরবরাহ শৃঙ্খল ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা
উত্তরবঙ্গ-সিলেট করিডোর কার্যকর হলে এটি কেবল সরাসরি পণ্য পরিবহনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন সহায়ক শিল্পেও নতুন বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচিত হবে। হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ), প্যাকেজিং শিল্প, কোল্ড চেইন লজিস্টিকস এবং পরিবহন খাতে এই নতুন করিডোরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিশেষত, পচনশীল কৃষিপণ্যের নিরাপদ পরিবহনের জন্য আধুনিক কোল্ড চেইন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি, এবং এই সেতু বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা এই ধরনের অবকাঠামোয় বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন।
এছাড়া রুটের মাঝামাঝি অবস্থিত জেলাগুলোতেও নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা তৈরি হবে। পণ্য সংগ্রহ কেন্দ্র, পাইকারি বাজার, ট্রাক টার্মিনাল ও লজিস্টিকস হাব গড়ে ওঠার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে, যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উভয় অঞ্চলের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ
সিলেটের ভৌগোলিক অবস্থান একটি বিশেষ কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। সিলেট তামাবিল স্থলবন্দরের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের (মেঘালয়, আসাম প্রভৃতি) সাথে বাণিজ্যিক সংযোগ ইতোমধ্যেই বিদ্যমান। উত্তরবঙ্গের সাথে সিলেটের সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হলে উত্তরবঙ্গের উৎপাদিত পণ্য শুধু সিলেটের অভ্যন্তরীণ বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তামাবিল স্থলবন্দর ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর হয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও এর প্রবেশাধিকার তৈরি হতে পারে। যেহেতু যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে বাংলাদেশি পণ্যের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। এর ফলে উত্তরবঙ্গের কৃষি ও শিল্পপণ্য একটি নতুন রপ্তানি করিডোরের সুযোগ পেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও গ্রামীণ অর্থনীতির রূপান্তর
দ্বিতীয় যমুনা সেতুর প্রভাব শুধু বড় ব্যবসায়ী বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এর সবচেয়ে গভীর প্রভাব পড়বে উত্তরবঙ্গের প্রান্তিক কৃষকদের জীবনে। বর্তমানে, দূরবর্তী বাজারে পণ্য পরিবহনের উচ্চ ব্যয়ের কারণে কৃষকরা প্রায়ই স্থানীয় মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হন। নতুন সংযোগ স্থাপিত হলে কৃষকরা সরাসরি বা স্বল্প মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে সিলেটের বৃহৎ বাজারে পণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন, যা তাদের প্রকৃত আয় বৃদ্ধি করবে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধি পাবে, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে পরিবারগুলোকে সহায়তা করবে।
পর্যটন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে সম্ভাবনা
শুধু কৃষি ও বাণিজ্য নয়, এই সেতু বাস্তবায়িত হলে পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য- চা- বাগান, ঝর্ণা, হাওর ও পাহাড়- উত্তরবঙ্গের পর্যটকদের জন্য সহজলভ্য হয়ে উঠবে, যা স্থানীয় পর্যটন শিল্পে নতুন গতি সঞ্চার করবে। একইভাবে সিলেটের শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রবেশাধিকার সহজ হবে এবং বিপরীতক্রমে উত্তরবঙ্গের শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সিলেটের মানুষ সহজে যাতায়াত করতে পারবেন। এই ধরনের আন্তঃআঞ্চলিক যোগাযোগ দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংহতিও শক্তিশালী করে, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত।
চ্যালেঞ্জ ও করণীয়
তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যথাযথ পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রথমত, সেতু নির্মাণের পাশাপাশি সংযোগ সড়কগুলোর মান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো যায়। দ্বিতীয়ত, পচনশীল কৃষিপণ্যের সুষ্ঠু পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত কোল্ড চেইন ও হিমাগার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, নতুবা শুধু দূরত্ব কমলেই পণ্যের অপচয় সম্পূর্ণরূপে রোধ করা যাবে না। তৃতীয়ত, ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও প্রশিক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা এই নতুন বাজার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন। চতুর্থত, স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে সরবরাহ শৃঙ্খল সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে অস্থিতিশীলতা তৈরি না হয়।
সব শেষে বলতে চাই
বালাসী-বাহাদুরাবাদ দ্বিতীয় যমুনা সেতু শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়, এটি হতে পারে উত্তরবঙ্গ ও সিলেট অঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক, কৃষি ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার একটি নতুন সেতুবন্ধন। এই সেতু বাস্তবায়িত হলে সিলেটের সাথে ব্যাবসার পরিসর বহুগুণে সম্প্রসারিত হতে পারে- কৃষিপণ্য সরবরাহ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, লজিস্টিকস, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এর প্রভাব। কৃষকের আয় বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় হ্রাস, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং দুই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক সংযোগ শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে এই প্রকল্প দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের অভিযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।
* জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক।