রসমঞ্জরীর জাদুতে রমেশ ঘোষের কোটি টাকার সাম্রাজ্য

ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাইবান্ধার মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে এক অনন্য অনুভূতির নাম ‘রসমঞ্জরী’। স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্নটির নাম শোনেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। তবে খুব কম মানুষই জানেন, কোটি টাকার বাজার গড়ে তোলা এই রসমঞ্জরীর পেছনের ইতিহাস যুক্ত রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ভারতের উড়িষ্যার কারিগর এবং এক অদম্য দূরদর্শী পুরুষ রমেশ চন্দ্র ঘোষের সাথে।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, রমেশ চন্দ্র ঘোষের পৈতৃক নিবাস ছিল সাবেক ঢাকা জেলার (বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) শ্রীনগর থানার চুরাইন গ্রামে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে কোনো এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তিনি গাইবান্ধায় পাড়ি জমান। শুরুতে ঘি বিক্রি দিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও ১৯৪৮ সালে গাইবান্ধায় ‘রমেশ সুইটস’-এর গোড়াপত্তন করেন তিনি। ঐতিহ্যবাহী এই রসমঞ্জরীকে বিশেষ মাত্রা দিতে রমেশ ঘোষ উড়িষ্যা থেকে দক্ষ কারিগর নিয়ে আসেন। সেই ঐতিহ্যবাহী রেসিপি ও নিজস্ব মনোপলি আজ গড়ে তুলেছে এক সুবিশাল মিষ্টির বাজার।

বর্তমানে গাইবান্ধার স্থানীয় বাজারে ‘রসমঞ্জরী’ শব্দের চেয়েও ‘রমেশ’ নামটি বেশি পরিচিত। অনেক ক্রেতাই দোকানে এসে এক কেজি রসমঞ্জরীর জায়গায় বলেন "এক কেজি রমেশ দেন"। ৭০-এর দশকে যে রসমঞ্জরী ১৫-১৬ টাকা ছের (সের) হিসেবে বিক্রি হতো, কাঁচামাল ও দুধের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৪০০ টাকায়।

অনেকে গাইবান্ধার রসমঞ্জরীর সাথে কুমিল্লার রসমালাইয়ের তুলনা করলেও স্থানভেদে স্বাদের দিক থেকে গাইবান্ধার রসমঞ্জরীকেই অনন্য বলে মনে করেন খাদ্যরসিকরা। আগে হাতে গুটি বা বল তৈরি করা হলেও ২০১০ সাল থেকে অটোমেটেড মেশিনের সাহায্যে রসমঞ্জরী তৈরি করা হচ্ছে।

তবে দুগ্ধজাত পণ্য হওয়ার কারণে গরমকালে এই মিষ্টি সংরক্ষণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। ঐতিহ্যবাহী এই ব্যবসাকে আন্তর্জাতিক রূপ দিতে বাংলাদেশ সাইন্স ল্যাবরেটরির কারিগরি সহযোগিতা দাবি করছেন স্বত্বাধিকারীরা। তাদের মতে, সঠিক ক্যানিং বা টিনজাত প্রযুক্তি প্রয়োগ করা গেলে ভারতের মতো গাইবান্ধার রসমঞ্জরীও দেশ ছাড়িয়ে বিশ্ববাজারে প্রক্রিয়াজাত মিষ্টি হিসেবে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

গাইবান্ধা বাসস্ট্যান্ডে নেমে যেকোনো রিকশায় চড়ে 'রমেশ ঘোষের মিষ্টির দোকান' বা 'ঘোষ বাবুর দোকান' বললেই সরাসরি পৌঁছে যাওয়া যায় কোটি টাকা মূল্যের এই সুস্বাদু ইতিহাস সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠানে।