ব্যাংকের ছোট ঋণেই ঘুরল ভাগ্যের চাকা
ব্যাবসা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জীবনযুদ্ধে হার না মানা এক মানুষের গল্প উঠে এসেছে ‘Songjog’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও চিত্রে। একসময় অভাবের তাড়নায় চোখের জল ফেলে ঘুমাতে যাওয়া মানুষটি আজ ব্যাংকের ছোট ঋণের সহায়তায় খুঁজে পেয়েছেন সচ্ছলতার পথ। প্রতিকূলতাকে জয় করে কীভাবে তিনি নিজের ও পরিবারের ভাগ্য বদলালেন, সেই করুণ অথচ অনুপ্রেরণামূলক কাহিনী এখন অনেকের মুখে মুখে।
অভাবের সেই দিনগুলি ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিটি তার অতীতের কষ্টের কথা স্মরণ করে বলেন, এমন দিনও গেছে যখন ঘরে কোনো খাবার ছিল না। ক্ষুধার্ত অবস্থায় ৫ ফিট সোভাগঞ্জ থেকে ফিরে না খেয়েই তাকে শুয়ে পড়তে হতো। অভাবের যন্ত্রণায় রাতে চোখের পানি ফেলে ঘুমাতেন এবং সকালে না খেয়েই দুর্বল শরীর নিয়ে সাইকেল চালিয়ে হাটে কাজের সন্ধানে যেতেন। দীর্ঘ ৪০-৪২ বছর ধরে তিনি কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন।
ব্যাংকের ঋণ ও নতুন পথ চরম দুর্দশার সময়ে তার স্ত্রী তাকে সাহস জোগান। স্ত্রীর পরামর্শে তিনি ব্যাংক থেকে ছোট অংকের ঋণ গ্রহণ করেন। এই ঋণের টাকা দিয়েই তিনি তার ছোট ব্যবসা ও আবাদি কাজ শুরু করেন। শুরুতে তালা-চাবি মেরামত এবং গ্যাস লাইট রিফিলের কাজ দিয়ে সংসার চালালেও পরে তিনি গ্যাসের চুলার মেরামতের কাজ শেখেন। এই ছোট উদ্যোগই তার জীবনে পরিবর্তনের ছোঁয়া নিয়ে আসে।
সাফল্য ও বর্তমান অবস্থা গ্যাসের চুলার কাজে আসার পর তার জীবনে সচ্ছলতা ফিরতে শুরু করে। আগে যেখানে তার নিজের কোনো জায়গা বা ভালো ঘরদোর ছিল না, এখন আল্লাহর রহমতে তিনি মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিয়েছেন। কষ্টের দিনগুলো এখন অতীত। বর্তমানে তিনি প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় করেন, যা দিয়ে তার সংসার সচ্ছলভাবে চলছে।
সেবা ও যোগাযোগের ঠিকানা বর্তমানে তিনি গাইবান্ধার জেলখানার সামনে এবং বিএম ল্যাবরেটরি স্কুলের সামনে নিয়মিত কাজ করেন। কারও গ্যাসের চুলা বা অন্য কোনো যান্ত্রিক সমস্যার প্রয়োজনে তাকে সেখানে পাওয়া যাবে। এছাড়া ভিডিওতে তিনি তার যোগাযোগের জন্য একটি ফোন নম্বরও (০১৭৬২৯২৮৫২) শেয়ার করেছেন।
ভবিষ্যৎ স্বপ্ন জীবনের শেষ বয়সে এসেও তিনি হাড়ভাঙা খাটুনি খাটছেন শুধুমাত্র সন্তানদের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কাজ করে যাওয়া এই মানুষটি মনে করেন, সততা আর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।



