রিল আর কার্বনের সেই সোনালী দিন শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: একসময় সিনেমা হলে রিল ঘোরালেই পর্দা জুড়ে ভেসে উঠত রূপালী জগতের আলো। রিল কাটাকাটি বা কার্বন আলো বন্ধ হলেই দর্শকে গ্যালারিতে উঠত শোরগোল। আশির কিংবা নব্বইয়ের দশকে বিনোদনের সবচেয়ে বড় এ মাধ্যমটি আজ ডিজিটাল প্রযুক্তির ভিড়ে ও ভালো গল্পের অভাবে বিলুপ্তির পথে।

দীর্ঘ ২৫-৩০ বছর ধরে সিনেমা হলে প্রজেক্টর চালক হিসেবে কর্মরত এক কর্মী স্মৃতিচারণ করে জানান, একসময় ঢাকা থেকে বাসে বা ট্রেনে ভারী রিল ও ফিলিম নিয়ে আসতে হতো। শো শুরুর আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিমাইন্ডিং মেশিনে ফিলিম ঘুরিয়ে ছিঁড়া-ফাটা পরীক্ষা করে জয়েন্ট দিতে হতো। ১৪ থেকে ১৬ রিলের চাকা ঘুরিয়ে অ্যানালগ প্রজেক্টরে সিনেমা চালানো হতো। তখন সিনেমা হলের কর্মীদের সাধারণ মানুষের কাছে আলাদা খাতির ও কদর ছিল।

তবে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বর্তমানে সব বদলে গেছে। এখন আর এনালগ প্রজেক্টর বা রিলের ভার বইতে হয় না; একটি পেনড্রাইভ বা ওয়াইফাই সংযোগ হলেই প্রজেক্টরে সিনেমা চালানো সম্ভব। তবে প্রযুক্তির অগ্রগতি হলেও হলের দর্শক ও ছবির মান দুটোই কমেছে।

তিনি আরও জানান, কেবল গাইবান্ধা জেলাতেই আগে ৩০ থেকে ৩২টি সিনেমা হল সচল ছিল। কিন্তু ভালো মানের ছবি না থাকা এবং ডিজিটাল যুগে দর্শক কমে যাওয়ায় এখন প্রায় সবগুলো হল বন্ধ হয়ে গেছে। হাতে গোনা দু-একটি হল টিকে থাকলেও তা দর্শকশূন্য।

মাত্র ৫ টাকা বেতনে চাকরি শুরু করা এই প্রজেক্টর চালক জানান, ২০০৫ থেকে ২০০৭ সালের পর থেকেই মূলত সিনেমা শিল্পে মন্দা শুরু হয়। বর্তমানে দৈনিক ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় করে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একসময়ের জমজমাট সিনেমা হলগুলোর এমন করুণ দশায় এখন অনিশ্চিত জীবন পার করছেন হল কর্মচারীরা।