লাশ বহনই যার পেশা: অভাবের সংসারে সরকারি সহায়তার আকুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পচা, গলা কিংবা দুর্ঘটনায় ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া লাশ দেখে যেখানে সাধারণ মানুষ শিহরে ওঠে, সেখানে ৩৫ বছর ধরে এমন ভয়াল পরিবেশেই জীবিকা খুঁজছেন এক প্রবীণ লাশ বাহক। অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটানো সাত সদস্যের সংসারের চাকা সচল রাখতে ‘লাশ বহন ও উত্তোলন’ করাই এখন তার একমাত্র পেশা।

গাইবান্ধা অঞ্চলে পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয়দের ডাক পেলেই তিনি ছুটে যান ঘটনাস্থলে। নদী, খাল, ঘর কিংবা কবর থেকে পচা-গলা মরদেহ তুলে তা মর্গে পৌঁছে দেওয়াই তার মূল কাজ। দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে ২ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হলেও পচা বা জটিল স্থান থেকে লাশ তুললে স্বজনরা কিছু বাড়তি টাকা দেন। তবে কোনো কোনো দিন কাজ না থাকলে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় তাকে।

সুদীর্ঘ ৩৫ বছরের এই অভিজ্ঞতায় পচা বা পোকা ধরা লাশের গন্ধেও তার কোনো ভয় বা ঘৃণা কাজ করে না। তিনি জানান, লাশের সঙ্গে রাত কাটানো বা পাশে থাকার মতো মানসিক সাহসও তার রয়েছে। তবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও তার ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজের জন্য তার কাছে নেই কোনো সুরক্ষা সরঞ্জাম।

তিনি আকুতি জানিয়ে বলেন, এই বয়সে এসেও এক অনিশ্চিত জীবন পার করছেন তিনি। সংসারের এই টানাটানির দিনে কোনো স্থায়ী সরকারি সাহায্য, ভাতা বা চাকরির সুযোগ দেওয়া হলে পরিবার নিয়ে একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারতেন।