দুটি মেশিন থেকে ৭০০ কোটি টাকার ব্যবসা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক অবিশ্বাস্য শিল্প বিপ্লব

ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক: হাতের তৈরি মাত্র দুটি যন্ত্র দিয়ে যে শিল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা রূপ নিয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পাঞ্চলে। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচা শহর ও এর আশপাশের জনপথ এখন শীতবস্ত্র উৎপাদনের এক বিশাল হাবে পরিণত হয়েছে, যেখানে শীত মৌসুমে শত শত কোটি টাকার বেচাকেনায় মুখরিত থাকে স্থানীয় অর্থনীতি,।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, প্রায় ছয় দশক আগে মারোয়াড়িদের কাছ থেকে পাওয়া দুটি হস্তচালিত মেশিন দিয়ে গোবিন্দগঞ্জের কোচা শহরে হোসিয়ারি শিল্পের গোড়াপত্তন হয়। সময়ের পরিক্রমায় সেই শিল্পে এসেছে বিশাল পরিবর্তন। বর্তমানে এখানকার প্রায় ৭,৬০০টি উৎপাদন ইউনিট বা কারখানায় আধুনিক সব মেশিনের সাহায্যে সোয়েটার, কার্ডিগেন, মাফলার, টুপি ও মোজাসহ অন্তত শ’খানেক পদের শীতবস্ত্র তৈরি হচ্ছে,। বগুড়ার আদমদিঘী থেকে সংগৃহীত জুটের সুতা এসব কারখানার অন্যতম প্রধান কাঁচামাল।

উৎপাদিত পণ্য বিক্রির মূল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে গোবিন্দগঞ্জের ‘নয়াহাট’ (উদ্যোক্তা নয়া মিয়ার নামে পরিচিত)। এখানকার তিন থেকে চার শতাধিক শোরুম ও পাইকারি বাজার থেকে শীতবস্ত্রগুলো উত্তরাঞ্চল পেরিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে। ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, পুরো শীতের মৌসুমে এই জনপদ থেকে অন্তত ৭০০ কোটি টাকার শীতবস্ত্র কেনাবেচা হয়ে থাকে।

এই বিশাল শিল্পাঞ্চলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, যার প্রায় ৬০ শতাংশই নারী। এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে কিছু উদ্যোক্তাকে কম সুদে ঋণ সহায়তা দেওয়া হলেও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় তা এখনো অপ্রতুল।

এদিকে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হলেও কোচা শহর বা নয়াহাটে কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা না থাকায় ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের সংকটে পড়তে হচ্ছে। টাকা জমা দিতে ৭ কিলোমিটার দূরে যাতায়াত করতে হয় এবং বাধ্য হয়ে অনেক সময় চড়া সুদের দাদন ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভর করতে হয়। কারিগরদের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ব্যাংকিং সেবাসহ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা গেলে এই হোসিয়ারি শিল্প দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।