শখ থেকে লাখ টাকার দুম্বার খামার মরুভূমির প্রাণী পালনে তাক লাগানো সাফল্য

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাধারণত মরুভূমির প্রাণী হিসেবে পরিচিত দুম্বা এখন সফলভাবে পালিত হচ্ছে আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলেও। শখের বশে শুরু করা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ভরতখালীর একটি দুম্বা খামার এখন স্থানীয় মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এসকেএস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই খামারে এখন বাণিজ্যিকভাবে দুম্বা লালন-পালন করে দারুণ সাফল্যের মুখ দেখছেন উদ্যোক্তারা,।

উদ্যোক্তারা জানান, ২০২২ সালের শেষের দিকে নীলফামারীর নীলসাগর থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি দুম্বা এনে এই খামারের গোড়াপত্তন করা হয়,। পরবর্তীতে আরও দুটি দুম্বা যোগ হয়ে মোট চারটি মূল স্টক থেকে বর্তমানে খামারে দুম্বার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯টিতে, যার বর্তমান বাজারমূল্য ১০ লাখ টাকারও বেশি,। দূর-দূরান্ত থেকে বয়োবৃদ্ধ মানুষসহ স্থানীয়রা প্রথমবারের মতো দুম্বা একনজর দেখতে খামারে ভিড় জমাচ্ছেন।

দুম্বা পালনের পদ্ধতি সম্পর্কে খামার সংশ্লিষ্টরা জানান, ছাগল ও ভেড়ার মতোই এগুলো ঘাস, খড়, গাছের পাতা এবং গমের ভুসি দিয়ে তৈরি সুষম দানাদার খাদ্য খেয়ে থাকে,। তবে ছাগলের তুলনায় দুম্বা অনেক বেশি শান্ত স্বভাবের এবং এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশ শক্তিশালী,। একটি পূর্ণবয়স্ক দুম্বার লাইভ ওজন প্রায় ৭৫ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রজননক্ষম দুম্বা প্রতি ১৪ থেকে ১৫ মাসে দুইবার (প্রতি ৭ মাসে একবার) একটি করে বাচ্চা প্রসব করে থাকে।

বাজারে একটি পূর্ণবয়স্ক দুম্বার দাম ১ লাখ ২০ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। বিশেষ করে কোরবানির ঈদের সময় এগুলোর চাহিদা ও দাম অনেক বেশি পাওয়া যায়। দুম্বা পালনের জন্য খোলামেলা মাচা সিস্টেমের ঘর এবং শীতকালে ঠান্ডারোধক ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। বন্যার সময় কিছুটা দুর্ভোগ ছাড়া বড় কোনো রোগবালাইয়ের ঝুঁকি এখানে নেই বললেই চলে।

বেকারত্ব দূরীকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরিতে দুম্বা পালন অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভবিষ্যতে এই খামারটিকে আরও বড় পরিসরে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।