ধানের চেয়ে দ্বিগুণ লাভে গাইবান্ধার কিবরিয়ার বাজিমাত
উদ্যোক্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক: উচ্চমানের কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে নিজ গ্রামে এসে কৃষিতে নতুন বৈপ্লবিক বিপ্লব ঘটিয়েছেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার তরুণ কিবরিয়া। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক এনজিওর চাকরি ছেড়ে গ্রামে থিতু হয়ে সমতল ভূমিতে মালটা চাষ করে তিনি আজ এক সফল ও অনুকরণীয় উদ্যোক্তা।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নাগবাড়ী গ্রামে প্রায় তিন বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন ফলবাগান। তার বাগানে প্রায় ৪০০টি মালটা ও কমলা গাছ রয়েছে। সাধারণত স্থানীয় চাষিরা ধান বা কলা চাষে সীমাবদ্ধ থাকলেও তিনি গতানুগতিক চিন্তার বাইরে গিয়ে বেছে নেন বৈদেশিক ফল মালটা। তার বাগানে বাড়ি-১, বাড়ি-২, সাউথ আফ্রিকান ইয়োলো এবং ভিয়েতনামি বাউ মালটার মতো উন্নত জাতের চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে ভিয়েতনামি এবং সাউথ আফ্রিকান ইয়োলো মালটার উৎপাদন ও মিষ্টি রসালো স্বাদের দরুন স্থান পেয়েছে ক্রেতাদের শীর্ষে।
কিবরিয়া জানান, বিগত এক মাস ধরে প্রতিদিনই গড়ে ১৫ ক্যারেটের মতো মালটা তুলে গাইবান্ধার স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করছেন তিনি। দৈনিক গড়ে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার টাকার মালটা। শুরুতে ২০০০ টাকা মণ দর থাকলেও বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ২৬০০ টাকা মণে এবং মৌসুমের শেষভাগে চাহিদা আরও বাড়ায় এর মূল্য দ্বিগুণ হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি। সম্পূর্ণ জৈব সার, ভার্মি কম্পোস্ট ও হাড়ের গুঁড়া (বোনমিল) ব্যবহারে মাটির গুণাগুণ ধরে রাখার পাশাপাশি তার বাগানের ফলের মিষ্টতা ও পুষ্টিগুণও নিশ্চিত করছেন।
তবে এই যাত্রা মোটেই সহজ ছিল না। কিবরিয়া বলেন, "বিদেশি ফল সমতল ভূমিতে চাষ করা এবং রোগবালাই ব্যবস্থাপনা সাধারণ কৃষির মতো নয়। টানা চার বছর পরিচর্যা ও গবেষণার পর পঞ্চম বছরে এসে কাঙ্ক্ষিত ফলন পেয়েছি।" নতুনদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ছোট চারার বদলে দুই বছর বয়সী ঝোপালো চারা রোপণ করলে অল্প সময়ে ফলন মিলবে। পাশাপাশি কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে নিজ এলাকার উপযোগিতা বুঝে জাত বাছাইয়ের আহ্বান জানান এই সফল উদ্যোক্তা
