মাত্র ৫০০ টাকায় শুরু, গৃহবধূ রাখির কুশিকাটার পণ্য পাড়ি দিচ্ছে ভারতেও
উদ্যোক্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ছোটবেলায় মা-চাচীদের দেখে সেলাইয়ের প্রতি জন্মেছিল গভীর অনুরাগ। সংসারের ব্যস্ততায় সেই কাজ কিছুটা আড়ালে গেলেও দমে যাননি তিনি। তিন বছর আগে মাত্র ৫০০ টাকা নিয়ে শখের বশে শুরু করা সেই কাজ আজ তাকে এক সফল উদ্যোক্তায় পরিণত করেছে। শারমিন সুলতানা রাখির তৈরি কুশিকাটার নান্দনিক পণ্য দেশজুড়ে সমাদৃত হওয়ার পাশাপাশি এখন রফতানি হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও।
শারমিন সুলতানা রাখি জানান, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় মা ও চাচীদের দেখে কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই হস্তশিল্পের কাজ শিখেছিলেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর তিন বছর আগে নিজের প্রতিভা ও আগ্রহকে কাজে লাগাতে ৫০০ টাকার সুতা কিনে কাজ শুরু করেন। নিজের পছন্দ ও ব্যবহারের জন্য কিছু জিনিস তৈরির পর পরিচিতদের কাছ থেকে ছোট ছোট অর্ডার আসতে শুরু করে। প্রথম চালানে রানারসহ প্লেট ম্যাট বিক্রি করে আয় করেন ১,২০০ থেকে ১,৪০০ টাকা। পণ্য বিক্রির সেই অর্জিত টাকা দিয়েই তিনি পুনরায় নতুন সুতা কেনা শুরু করেন।
বর্তমানে তার তৈরি সুনিপুণ কুশিকাটার পণ্যের মধ্যে রয়েছে টেবিল ম্যাট, প্লেট ম্যাট, রানার, টিস্যু বক্সের কভার, বাচ্চাদের টুপি, শাল, চাদর, চাবিরিং, সোয়েটার, টি-শার্ট, সোপার কুশন কভার, ওয়াল হ্যাঙ্গিং এবং দেব-দেবীর (গোপাল) পোশাক। গ্রাহকদের কাছে সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয় পণ্য হলো টিস্যু বক্স কভার, যা তিনি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করেন। এছাড়া ৬টি ম্যাট ও ১টি রানারের বিশেষ সেট ১,২০০ থেকে ১,৪০০ টাকা এবং ৩টির কাপের কোস্টার সেট ১০০ টাকায় বিক্রি করেন তিনি।
কাজের অনুপ্রেরণা হিসেবে রাখি স্মরণ করেন তার প্রয়াত মাকে এবং বর্তমানে স্বামীর পূর্ণ সমর্থনের কথা উল্লেখ করেন। বগুড়া নিউ মার্কেট ও গোবিন্দগঞ্জ থেকে প্রয়োজনীয় মানসম্মত সুতা সংগ্রহ করে তিনি দিন-রাত এক করে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে পণ্য প্রস্তুত করেন।
অনলাইনের চেয়ে সরাসরি পরিচিত জন ও অফলাইনেই তার পণ্যের চাহিদা বেশি। ঢাকা, রংপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া ও গোবিন্দগঞ্জের পাশাপাশি তার কুশিকাটার তৈরি গোপালের পোশাক এবং বিশেষ আসন ভারতেও পাঠানো হয়েছে।
ভবিষ্যতে নিজের হস্তশিল্পের এই উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারিত করার স্বপ্ন দেখছেন রাখি। তার সাথে যোগাযোগের জন্য ফেসবুক আইডি 'Sharmin Sultana Rakhi' অথবা মোবাইল নম্বর 01317972799 ব্যবহার করা যাবে।
