ইউটিউব দেখে কেক বানিয়ে ভাগ্যের চাকা ঘুরল জয়ার

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিজের এলাকায় ভালো মানের কেকের অভাব দূর করতে ও শখের বশে ইউটিউব দেখে কেক বানাতে শুরু করেছিলেন এক সাধারণ গৃহিণী। শুরুর দিকে বারবার কেক পুড়ে যাওয়া কিংবা হাত পুড়ে যাওয়ার মতো অভিজ্ঞতা হলেও হার মানেননি তিনি। অদম্য ইচ্ছা ও পরিশ্রমকে পুঁজি করে আজ সফল কেক উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন জয়া দত্ত। ‘Joya's Kitchen and Craft’ নামের উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি এখন প্রতি মাসে আয় করছেন এবং পরিবারের অভাব দূর করে কেনাকাটা করছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সরঞ্জাম।

জয়া দত্ত জানান, ভালো মানের কেকের জন্য আগে অন্য জেলা বা শহরে যেতে হতো। ছোটবেলায় মাকে টিভিতে কুকিং শো দেখে কেক বানাতে দেখার অভিজ্ঞতা আর ইউটিউব-গুগলের সহায়তায় তিনি নিজ থেকেই কেক বানানো শেখা শুরু করেন।

করোনাকালে মানুষ যখন বাইরে বের হতে পারছিল না, তখন ঘরে তৈরি ভেজালমুক্ত খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। এই সুযোগে কোভিডের পর পরই বাণিজ্যিকভাবে কেক বিক্রি শুরু করেন তিনি। শুরুতে প্রেসার কুকার ও গ্যাসের চুলায় কেক তৈরি করতেন, যেখানে প্রায়ই বাটি বা থালাবাসন পুড়ে নষ্ট হতো। প্রথম দিকে ১২-১৩ হাজার টাকার মতো মূলধন দিয়ে শুরু করা এই ব্যবসায় প্রতিকূলতা এলেও দমে যাননি তিনি।

কেক বিক্রির অর্জিত লাভ থেকেই জয়া পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রিক ওভেন, বিটার মেশিন, কেকের আধুনিক মোল্ড এবং একটি বড় ডাবল ডোর ফ্রিজ ক্রয় করেন। তার এই উদ্যোগে স্বামী ও সন্তানও সার্বিক সাহায্য করেন।

বর্তমানে তার এখানে ৪৫০ টাকা পাউন্ডে ভ্যানিলা কেক এবং ৫৫০ টাকা পাউন্ডে চকলেট কেক পাওয়া যায়। এছাড়া বিশেষ কাস্টমাইজড থিম কেক ও ফনড্যান্ট কেকের অর্ডারও নেওয়া হয়।

ভবিষ্যতে নিজের এই উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন জয়া দত্ত। অনলাইনে পেজের পাশাপাশি রাজমতী মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত ‘প্রতীক টেলিকম অ্যান্ড কনিকা গিফট হেয়ার অ্যান্ড ফুল কর্নার’ থেকেও তার কেকের অর্ডার দেওয়া যায়। অর্ডারের জন্য যোগাযোগ নম্বর: 0173989613।