বাবার শেষ সম্বল বিক্রির ৮০ হাজার টাকায় শুরু
উদ্যোক্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক: উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু পকেটে ছিল না কোনো মূলধন। সার্ভিসিংয়ের কাজ শিখতে নিজের ব্যবহৃত শখের ফোনটি পর্যন্ত বিক্রি করে দিতে হয়েছিল। পরবর্তীতে দোকান খোলার সংকটকালে বাবা তার শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে ৮০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছিলেন ছেলের হাতে। বাবার সেই দোয়া আর বিশ্বাসকে সম্বল করে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কাজ করে আজ শূন্য থেকে সফল উদ্যোক্তা বনে গেছেন গাইবান্ধার তরুণ সঞ্জয়।
গাইবান্ধা শহরের বি কে বিশ্বাসের খান মার্কেটে অবস্থিত ‘সঞ্জয় টেলিকম’-এর স্বত্বাধিকারী সঞ্জয় জানান, ২০০৬ সালে ভাগনা শুভর অনুপ্রেরণায় মোবাইল সার্ভিসিং শেখার সিদ্ধান্ত নেন। ঢাকায় গিয়ে আকমল স্যার নামক এক অভিজ্ঞ ওস্তাদের অধীনে কাজ শেখে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ঢাকায় ও স্থানীয় দোকানে কাজ করেন।
নিজে দোকান দেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় এগিয়ে আসেন তার বাবা। নিজের শেষ সহায়-সম্বল বিক্রি করে অর্জিত ৮০ হাজার টাকা ছেলের হাতে তুলে দিয়ে আশীর্বাদ করেন। বাবার হাত ধরে শুরু হওয়া সেই পথচলায় সঞ্জয়কে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
কাজের প্রতি নিষ্ঠার এক বিরল দৃষ্টান্ত গড়েছেন সঞ্জয়। একবার কাস্টমারের একটি আইফোন মেরামত করতে গিয়ে ব্যাটারিতে আগুন ধরে যায়। কাস্টমারের ফোনটিকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে সঞ্জয় নিজের খালি হাতেই জ্বলন্ত ব্যাটারি বের করে নেন। এতে মোবাইল রক্ষা পেলেও তার নিজের হাত মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। হাত পুড়লেও কাস্টমারের মোবাইল রক্ষা করার এই দায়িত্বশীলতা তাকে এলাকায় দ্রুত জনপ্রিয় করে তোলে।
বর্তমানে গাইবান্ধা শহরের পুরাতন টেকনিশিয়ানদের মধ্যে টিকে থাকা সঞ্জয়ের দোকানে মোবাইলের সফটওয়্যার থেকে শুরু করে লেভেল ১ থেকে লেভেল ৫ পর্যন্ত সব ধরণের আইসি, সিপিইউ রিবলিং, ডিসপ্লে ওসিএ ও জটিল হার্ডওয়্যারের কাজ হয়। কাজের ধরন অনুযায়ী অভিজ্ঞ কারিগরদের আলাদা ভাগে ভাগ করে কাজ পরিচালনা করেন তিনি।
সততা এবং সীমিত সার্ভিস চার্জের কারণে প্রতিদিন বহু দূর-দূরান্তের মানুষ তার কাছে মোবাইল মেরামতের জন্য আসেন। কেবল নিজে স্বাবলম্বী হয়েই ক্ষান্ত হননি, সঞ্জয়ের অধীনে এখন কাজ করছেন প্রায় ১০ থেকে ১২ জন তরুণ। ভবিষ্যতে আরও বেশি বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই তার মূল লক্ষ্য।
