সমতলে প্রথমবার গলদা চিংড়ি চাষে দেড় লাখের স্বপ্ন

উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: “আমাদের এলাকায় নদীর মাছ কিংবা মিষ্টি পানির অন্যান্য মাছ হতে পারে, কিন্তু গলদা চিংড়ি চাষ হবে না”—স্থানীয় মানুষের এমন প্রচলিত ধারণাকে তুচ্ছ করে ঝুঁকি নিয়েছিলেন এক ক্ষতিগ্রস্ত খামারি। প্রথমবার মিষ্টি পানিতে ১০ হাজার গলদা চিংড়ির পোনা ছেড়ে বাজিমাত করেছেন তিনি। গাইবান্ধায় সমতলে বাণিজ্যিকভাবে গলদা চিংড়ির বাম্পার উৎপাদনে তিনি এখন নতুন আশার আলো দেখছেন।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নের বেড়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা এই উদ্যোক্তা চার বছর আগে পোল্ট্রি খামারে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েন,। সাড়ে তিন হাজার লেয়ার মুরগি একযোগে মারা যাওয়ায় প্রায় ৩১ লাখ টাকা লোকসান গুনে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তবে ভেঙে না পড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদে এসকেএস ফাউন্ডেশনের সহায়তা ও প্রতিনিধি ইউসুফ ভাইয়ের পরামর্শে গলদা চিংড়ি চাষের একটি নতুন ‘রিস্ক’ গ্রহণ করেন,।

খুলনার ডুমুরিয়া থেকে সাড়ে ২৭ হাজার টাকায় ১০ হাজার গলদা চিংড়ির চারা পোনা কিনে এনে জুন মাসে পুকুরে ছাড়েন তিনি,। উন্মুক্ত জলাশয়ে শিয়াল, ইঁদুর কিংবা সাপের আক্রমণ থেকে চিংড়ি বাঁচাতে পুরো পুকুরের চারপাশে জাল (নেট) দিয়ে ঘেরা দেওয়া হয়,। নিয়ম করে ১৫ দিন পরপর পানিতে চুন প্রয়োগ এবং পাউডার ও জিরো ফিটের সাথে নিজস্ব পদ্ধতিতে নালি ও রাইস ব্রান তৈরি খাবার খাইয়ে গত পাঁচ মাস ধরে মাছের পরিচর্যা করছেন,,।

বর্তমানে পাঁচ মাস বয়সে এক একটি চিংড়ির গড় ওজন দাঁড়িয়েছে ৬৫ থেকে ৭০ গ্রামে,। চুন, খাদ্য, জাল ঘেরা ও পরিবহন খরচ মিলিয়ে এ পর্যন্ত তার মোট খরচ হয়েছে আনুমানিক ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। আর প্রথম ধাপে এই মাছ বিক্রি করে ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বেশি আয়ের আশা করছেন তিনি,।

অন্যান্য মাছের তুলনায় কম খরচে এবং কম পরিশ্রমে মিষ্টি পানিতে গলদা চিংড়ি চাষের চমৎকার সাফল্য দেখে তিনি আপ্লুত। এ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে প্রজেক্টের পরিধি আরও বাড়ানো ও স্থানীয় তরুণদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন এই উদ্যোক্তা,।